চট্রগ্রাম অফিস :: বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ পিস ইয়াবার মালিক ও বোটের মালিকসহ আটজনকে আটক করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-৭)। এটাই র্যাব-৭ এর উদ্ধার করা সবচেয়ে বড় চালান।
উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলোর মোট মূল্য প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধারের পর বুধবার দুপুর তিনটায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মায়ানমার থেকে ট্রলারযোগে নৌ-পথে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান আনা হচ্ছে এমন গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর এলাকায় গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে (এফভি ইমন, এফ- ৯৬৪৩) নামের একটি ফিশিং ট্রলারে তল্লাশি চালায় র্যাব সদস্যরা। এসময় ট্রলারটির কোল্ড স্টোর থেকে ১০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ট্রলারটির মাঝি ও মায়ানমারের এক নাগরিক সহ চার জনকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে মায়ানমারের নাগরিক মো. কামাল (৪২),ট্রলারের মাঝি মো. আব্দুস সালাম (৫৫), মো. শফিক (৩৫) ও আব্দুর রহিম বার্মা (৩০) কে আটক করা হয়।
পরে আটক চারজনের দেয়া তথ্যানুসারে উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলোর মালিক মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন (২৫) ট্রলারটির মালিক মো. সৈয়দ আলম (৩০) ও তাদের সহযোগী মো. রবিউল আলম (২৬) সহ তিনজনকে র্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি দল কক্সবাজার কলাতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
এদিকে পরবর্তীতে আটক তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষনিকভাবে নগরীর বহাদ্দারহাট আজমির হোটেলের সামনে থেকে মাদচক্রের অন্য সহযোগী মো. ইসলাম মামুনকে (৭০)আটক করা হয়।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয় মাদক পাচারের এই চক্রটি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মোট সাড়ে ১৪ লাখ পিস ইয়াবার আরো দুইটি বড় চালান চট্টগ্রামে নিয়ে আসে এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জয়নাল আবেদীন ও তার মামাতো ভাই মফিজের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংক্রান্ত মাদক মামলা রয়েছে।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক মিডিয়া এএসপি মিমতানুর রহমান জানিয়েছেন, “কয়েকদিন আগে ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে র্যাব-৭কে সমুদ্রে তল্লাশী ও উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য একটি অত্যাধুনিক বোট দেওয়া হয়েছে, এই বোট দিয়ে সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ বোটটি আটক করা হয়েছে।
