অবশেষে কাজে ফিরলেন ডাক্তাররা

0

চট্রগ্রাম: সার্জিস্কোপে ‘ভুল অস্ত্রোপচার ও অবহেলায়’ রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) ‘প্রাইভেট প্র্র্যাকটিস বন্ধ’ কর্মসূচি স্থগিত করায় ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, সাউদার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইউএসটিসিতেও বাড়তি চাপ কমে গেছে।

বিএমএ’র যুগ্ম সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, রোগীরা আমাদের প্রাণ। আমরা একমুহূর্তের জন্যেও পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে চাই না। আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য, তিলে তিলে গড়ে তোলা একেকটি ক্লিনিক ভাঙচুরের হাত থেকে রক্ষার জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে শুধু রোগীরাই দুর্ভোগে পড়েননি, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী-নার্সদের বেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মেয়রের ‘সম্মানজনক সমাধানের’ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করায় পুনরায় সচল হয়েছে চেম্বার-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো।

তিনি বলেন, একজন ডাক্তারের ছুরি আর সন্ত্রাসীর ছুরি এক নয়। তাই কোনো রোগী বা স্বজন সংক্ষুব্ধ হলে যাতে বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়াই সরাসরি ফৌজদারি মামলা করতে না পারে, যাতে ভুলবোঝাবুঝি থেকে গ্রেফতার-হয়রানির মতো ঘটনার মাধ্যমে ডাক্তারদের ভীতসন্ত্রস্ত হতে না হয় সে জন্যে একটি সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবো। জনমত সৃষ্টি করবো। নয়তো আগামীতে ডাক্তারি পেশায় তরুণরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ডা. শাহিন জানান, কর্মসূচি স্থগিত করার পরপরই ক্লিনিকগুলোতে রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সব চেম্বারে রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কাজটি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ থাকাকালীন যেসব হাসপাতালে বাড়তি চাপ পড়েছিল রোগীর তা-ও সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে।

বুধবার সকাল থেকে রোববার বিকাল পর্যন্ত বিএমএর কর্মসূচির কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল ডাক্তারদের চেম্বার, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.