২০২১ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্ন পানি পাবে নগরবাসী

0

চট্রগ্রাম: চট্টগ্রাম ওয়াসার চলমান প্রকল্পসমূহের কাজ শেষ হলে ২০২১ সাল থেকে চট্টগ্রাম নগরবাসী নিরবচ্ছিন্নভাবে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পাবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ।
বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে ওয়াসার চলমান প্রকল্পসমূহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম ওয়াসার নেওয়া চারটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন মোট ৪৩ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা করা যাবে। এর মধ্যে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৪ কোটি লিটার, চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট এন্ড স্যনিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৯ কেটি লিটার, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) মাধ্যমে প্রতিদিন ১৪ কোটি লিটার ও ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।
এর মধ্যে ২০১৬ তে শেষ হবে প্রথম দুটি এবং ২০২১ সাল নাগাদ শেষে হবে অপর প্রকল্পগুলো।
বর্তমানে ৫১ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে ওয়াসা সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ২১ কোটি লিটার পানি ।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামকে পানি সমস্যামুক্ত একটি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। একে একে অনেকগুলো বড় প্রকল্পে হাত দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই প্রকল্পগুলো শেষ হলে চট্টগ্রাম নগরীতে কোনো পানির সমস্যা থাকবে না। এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি যাবে আনোয়ারা অর্থনৈতিক জোন, বোয়ালখালী ও পটিয়া শিল্প এলাকায়।

কর্ণফূলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৮শ ৪৮ কেটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গুণিয়া উপজেলা হতে পানি শোধন করে সমগ্র চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন ১৪ কোটি পানি সরবরাহ করা হবে। জানুয়ারী পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা শুরু হবে মার্চ মাসে। আর জুন মাসেই এ প্রকল্পের সুবিধা পুরো চট্টগ্রাম শহর বাসী পেতে শুরু করবে বলে জানান প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ।

চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইপ্রুভমেন্ট এন্ড স্যনিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ ২০১৬ সালের মধ্যেই সম্পন্ন হবে । এ প্রকল্পের ফলে চট্টগ্রাম শহওে প্রণীত মাস্টার প্লান অনুসারে ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন প্রকল্প গ্রহন করার পথ সুগম হবে বলে আসা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফূলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) মাধ্যমে রাঙ্গুণিয়া উপজেলা হতে পানি শোধন করে সমগ্র চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে মোট ৪৪শ ৯১ কোটি টাকা। যার মাধ্যমে ১৪ কোটি লিটার সুপেয় পানি সমগ্র চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পে সরকার ৮শ ৪৪ কোটি, জাইকা দিবে ৩ হাজার ৬শ ২৩ কোটি ও চট্টগ্রাম ওয়াসা দিবে ২৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালে।

কর্ণফূলী নদীর তীরে বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প নামে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে এক হাজার ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী থেকে পানি ট্রিটমেন্ট করে কর্ণফূলী নদীর বাম তীরে কাফকো, সিইউএফএল কোরিয়ান ইপিজেড ইত্যাদি শিল্পাকারখানাসহ আবাসিক এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে। মোট টাকার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮০ ভাগ এবং বাংলাদেশ সরকার ২০ ভাগ অর্থায়ন করবে। এই প্রকল্পে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়ার পর টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) রতন কুমার শিকদার, সচিব মো. সামসুদ্দোহা, বানিজ্যিক ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য খোকন, প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জহুরুল হক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা বেগম কাজী নুরজাহান শীলা অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.