মিটারে চলছে না টেক্সি, দূর্ভোগে যাত্রীরা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ও নগর পুলিশের কড়া হুশিয়ারী, ব্যাপক ধরপাকড়, পুলিশ-বিআরটিএ এর সাড়াঁশী অভিযানে নগরীতে অটোরিক্সার সংকটে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী ও বিদেশগামীসহ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণ ভয়াবহ ভোগান্তিতে সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গত ২ দিনে নগরীতে মিটার বিহীন ও নিবন্ধনহীন অটোরিক্সার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ নাগরিক ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বলে দাবী করেন সংগঠনটি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতাদের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ১ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীসভার নিয়মিত বৈঠক সচিবালয়ের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে যান। ওই দিন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু আমাদের কতিপয় মন্ত্রী, আমলাদের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পরীক্ষার্থীসহ নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবী করেন তারা।

উল্লেখ্য যে, ১ ফেব্রুয়ারী এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অটোরিক্সার মিটার বাস্তবায়নে এমন চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে।

প্রসঙ্গ, ইতিপূর্বে ঢাকা মহানগরীতে গত ১ নভেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে অটোরিক্সার মিটার বাস্তবায়নের দিন জেএসসি ও জেডিসি পরিক্ষার প্রথমদিন থাকায় ওই দিনও একই ভোগান্তিতে পড়েছিল হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। সরকারের ভালো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নাগরিক ভোগান্তি আমলাদের অদুরদর্শী সিদ্ধান্তের কুফল বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
গত ২ দিনে নগরীতে ৩৬০টি সিএনজি অটোরিক্সা পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সদস্যরা।

এতে দেখা গেছে মাত্র ১২ শতাংশ অটোরিক্সা মিটারে চলছে। অভিযানে এই দুই দিনে মিটার বিহীন ও নিবন্ধনহীন অটোরিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও মিটারে চলছে কিনা তা দেখার সুযোগ হয়নি বলে পুলিশ ও বিআরটিএ এর পক্ষ থেকে জানা গেছে।

পর্যবেক্ষণ কালে ৪১৭ জন যাত্রীর সাথে কথা বলেন মনিটরিং টিমের সদস্য এ সময় যাত্রীরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের একই হারে ভাড়া নির্ধারণ করায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। ৭২ শতাংশ যাত্রী মনে করেন চট্টগ্রামে একলাফে অটোক্সিার ভাড়া ৬০ ভাগ বৃদ্ধি অযৌক্তিক ও অগ্রহনযোগ্য। ১২ শত্যাংশ যাত্রী মনে করেন এ ভাড়া সঠিক হয়েছে। ১৬ শতাংশ যাত্রী ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়া সঠিক ছিলনা। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর অটোরিক্সা ভাড়া কমানোর দাবী করেন ৮৮ শতাংশ যাত্রী।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি পর্যবেক্ষণ মতে, ২০১৫ সালের আগষ্ট মাসে সিএনজির মূল্য ১৭ শতাংশ বৃদ্ধির পর অটোরিক্সার ভাড়া একলাফে ৬০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়। মালিকদের জমা বৃদ্ধি করা হয় ৫০ শতাংশ। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভাড়া পূণনির্ধারণের পর থেকে দুই দফা অটোরিক্সার ভাড়া বাস্তবায়নের তারিখ পিছানো হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে ভাড়া বৃদ্ধির পর থেকে মিটার লাগানোর কার্যক্রমটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা গেলে মিটার বাস্তবায়নের দিন নগরীর পরীক্ষার্থীসহ যাত্রী সাধারণকে এমন ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেয়া সক্ষম হতো।

সমিতির পর্যবেক্ষণকালে গত ২ দিনে মিটারবিহীন ১৬৩২ টি অটোরিক্সার বিরুদ্ধে মামলা ও নিবন্ধনহীন ১৯২টি অটোরিক্সা পুলিশ ও বিআরটিএ আটক করে। এতে করে মিটারবিহীন নিবন্ধিত অট্রোরিক্সার প্রায় ৪৫ শতাংশ, নিবন্ধনহীন অটোরিক্সার ৯৬ শতাংশ নগরীর সড়ক থেকে উধাও হয়ে যায়। এ কারনে গণপরিবহনের ভয়াবহ সংকটে যাত্রী ভোগান্তির সৃষ্টি হয় বলে প্রতিবেদনে দাবী করা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.