চট্টগ্রাম: বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে সুতার বদলে দামি সিগারেট আনার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তে মাঠে নামছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ঘটনা উদঘাটনে গত সোমবার(৭ মার্চ) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার এহতেশামুল হককে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন-সহকারী কমিশনার কামরুল ইসলাম, রাজস্ব কর্মকর্তা শিশির কুমার পাল, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (গোয়েন্দা শাখা) অনুপ রায় ও আসিফ আহমেদ।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও চোলাচালান রোধে বিষয়ে গত সোমবার বৈঠকে বসেন কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ। এতে সব বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা চোরাচালান রোধে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক আনোয়ার শওকত আফসারের মালিকানাধীন সাকি শিপিং লাইনের জাহাজে করে দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে আসা সিগারেটের চালান নিয়েও আলোচনা হয়।
চালান দুটি আটকের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, এধরনের চালান আগেও এসেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন কাস্টমস কমিশনার।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গাজিপুরের এফআরসি নিট কম্পোজিট প্রতিষ্ঠানের নামে আনা কন্টেইনারে সুতার বদলে বেনসন সিগারেট পাওয়ার পর সাকি শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার শওকত আফসারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব। বন্দর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় জেলে পাঠানো হলেও চারদিন পর জামিনে বের হয়ে যান আনোয়ার শওকত।
এরপর ২ মার্চ(বুধবার) সাকি শিপিং লাইনের আরেকটি জাহাজে আসা কনটেইনারে ২৮৮ কার্টন সিগারেট জব্দের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ওয়েবল্যাংকসেন জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কন্টেইনারে সুতা থাকার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে ২৮৮ কার্টন সিগারেট। এসব সিগারেটের বর্তমান বাজার মূল্য ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ঢাকার সাভারের জেনেটিক ফ্যাশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সুতা ঘোষণা দিয়ে বন্ড সুবিধায় চালানটি নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় পরদিন(বৃহস্পতিবার) সকালে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে চালানটি খালাসের দায়িত্বে থাকা সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ফোর স্টার ট্রেডিং কোম্পানির প্রোপাইটর কামির হোসাইন, কর্মচারি কাইয়ুম হোসেন ও মো.জসিমের নাম উল্লেখ করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জেনেটিক ফ্যাশনকে আসামী হয়েছে।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একই শিপিং লাইনের দুটি জাহাজে করে আসা কন্টেইনারে সিগারেটের চালান পাওয়া গেছে। এই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে কিভাবে এলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয় তদন্তে তুলে আনার চেষ্টা থাকবে।
সূত্র জানায়, যে দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে চালানগুলো এসেছে ওই দুই প্রতিষ্ঠানেরই অস্থিত্ব রয়েছে। তবে তারা অস্বীকার করে বলছে তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে চালান দুটি আনা হয়েছে। একই অযুহাত দিচ্ছে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ফোর স্টাফ ট্রেডিং কোম্পানি।
তবে প্রতিষ্ঠান দু’টির আমদানি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বন্ড সুবিধার আওতায় থাকলেও নিয়মিত পণ্য আমদানি করেনি। কাস্টমস কর্মকর্তারা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলছেন, সাধারণত যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পণ্য আমদানি করে না সেই প্রতিষ্ঠানগুলোই এ ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই প্রতিষ্ঠান দু’টির যাবতীয় আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।

Comments are closed.