চট্টগ্রামের গহিরায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী ‘রিলায়েন্স’

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের গহিরায় ৭৫০ মেগাওয়াটের দুইটি গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি পেতে বাংলাদেশ ইকনোমিক জোন অথরিটির (বেজা) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘রিলায়েন্স’।

‘বেজা’র কাছে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহের কথা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন ওই কোম্পানির গ্যাস প্রকল্পের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিজনেস হেড, সামির কুমার গুপ্তা। আর প্রস্তাবটিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বেজা কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের খবরে এসব তথ্য বলা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব যদি সরকার বিবেচনায় নেয় তাহলে সেটি হবে সরকারের সপ্তম-পঞ্চ বার্ষিকীর পরিকল্পনার সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের সাথে প্রকল্পের অবকাঠামোগত ব্যয়ও বেড়ে তিনগুণ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা আলোচনার পর, ২০১৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ খাতে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় ভারতীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স। আমদানি করা এলএনজি আর বাংলাদেশের গ্যাস ব্যবহার করে তিন ধাপে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক মহা পরিকল্পনার ঘোষনা আসে এই ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

সর্বশেষ ৭৫০ মেগাওয়াটের দুইটি গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চট্টগ্রামের গহিরায় জমি চেয়েছে বেজার কাছে। যদিও চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ৯০ একর জমি দেয়া হয়েছিলো রিলায়েন্সকে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সেদিকে না গিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গহিরার দিকে নজর দিয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য।

বেজার নির্বাহী পরিচালক পবন চৌধুরী বলেছেন, ‘রিল্যায়েন্স চট্টগ্রামে কয়েকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে চায়। সেগুলো আনোয়ারা কিংবা মিরসরাইতে হতে পারে। তারা আগ্রহ দেখিয়ে আমাদের কাছে জমি অধিগ্রহণ ও সম্ভাব্যতার ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। আমরা সব কিছু বিবেচনা করছি।’

এদিকে জ্বালানী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর শামসুল আলম বলেছেন, ‘সরকারের সপ্তম-পঞ্চ বার্ষিকীর মৌলিক লক্ষ্য হচ্ছে, পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি সেক্টরে প্রতিযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। তবে রিলায়ান্সের প্রস্তাব এটির সাথে সম্পূর্ণই সাংঘর্ষিক।’

এছাড়া এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের চেয়েও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় হবে দ্বিগুণ। সেক্ষত্রে ভারতীয় ওই কোম্পানি কতটাকা দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে সেই টাকা উসুল করবে সেটিও বাংলাদেশকে বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে জ্বালানী, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেছেন, ‘রিলায়ান্সের প্রস্তাব সরকার বিবেচনায় রাখছে। এটি ফিরিয়ে না দিয়ে প্রকল্পের ফলে সরকারের লাভ ক্ষতি সব দিক বিবেচনা করে বিদেশী এই বিনোয়েগের ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

উল্লেখ্য, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে আনোয়ারা উপজেলায় ৭৭৫ একর জমির ওপর বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক জোনের জন্য ২৯১ একর খাস জমি প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তর করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

বেজা সূত্র জানায়, দেশের উদীয়মান ও রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ শিল্প, ইলেট্রনিকস পণ্যসামগ্রী, ফার্নেস ও সিমেন্ট শিল্পকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এতে ৩৭১টি শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। এরমধ্যে ২৫০টিই জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য বরাদ্দ থাকবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯ কিলোমিটার, শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরত্বে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল অবস্থিত। সমুদ্রবন্দরের সাথে লাগোয়া প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বেজা সূত্র জানায়, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫৩ হাজার ৪২০ জন লোকের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে। তবে প্রকল্প এলাকায় এলাকায় অনুন্নত অবকাঠামো, নেই যোগাযোগব্যবস্থা সুযোগ-সুবিধা, নেই বিদ্যুৎ-গ্যাস লাইন, ল্যান্ড ফোন ও সুপেয় পানির সরবরাহ সুবিধাও নেই। সমুদ্রতীরে গহিরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে বেড়িবাঁধ কাম সংযোগ সড়ক থাকলেও তা জরাজীর্ণ-বেহাল অবস্থা। অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.