ট্যালেন্টহ্যান্ট ফাইনালে চট্টগ্রামের প্রিন্স সেরা কমেডিয়ান নির্বাচিত

চট্টগ্রাম অফিস :    রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের রাজদর্শন হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের আগামী ছবি ‘দ্য স্পাই’-এর জন্য নতুন শিল্পী খোঁজার কার্যক্রম ‘ড্যানিশ-মনসুন ফিল্মস ট্যালেন্ট হান্ট’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। সন্ধ্যা ৭ টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড্যানিশ ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজ আল মাহমুদ ও এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের সেলিব্রেটিরা। অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষন হিসেবে অনন্ত জলিল, কন্ঠ শিল্পী হৃদয় খান, কণা, সালমা ও রবি চৌধুরী।

এছাড়াও ১২টি ক্যাটাগরি থেকে বাছাইকৃত ফাইনলিষ্ট ৩৫ জন প্রতিযোগীও ষ্টেজ পারফর্ম করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ‘দ্য স্পাই’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে নায়ক চরিত্রে বিজয়ী হন শাহেদ ও সাব্বির, নায়িকা সারা ও মাহিন, ভিলেন মিল্টন, নিক্সন, রেজাউল ও রাসেল এবং কমেডি ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হন চট্টগ্রামের ছেলে ডা. প্রিন্স। বাবা-মা ক্যাটাগরিতে উম্মে সালমা, ইউসুফ আলী খান, এস ইসলাম, তৃপ্তি বিজয়ী হন। এছাড়াও আইটেম ক্যাটাগরিতে অমৃতা ও কো-আর্টিষ্ট হিসেবে ট্যালেন্ট হান্ট বিজয়ী হন নাসা, লাকি, অং মারমা, নিরব, মাসুদ রানা, মেহেদি ও আরমান। ডা: প্রিন্স। তার পুরো নাম হচ্ছে ডা: বাসু রাজ চৌধুরী প্রিন্স। ছোটবেলা থেকে বিনোদনকে খুব ভালবাসতেন। তার স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্রে রূপালী পর্দায় অভিনয় করা আজ দীর্ঘ ৫ মাস সারা বাংলাদেশ থেকে ৩ লক্ষ ৬১ হাজার প্রতিযোগী এই ট্যালেন্টহ্যান্ট রিয়েলিটি শো-তে অংশ গ্রহন করেছিল।

তার মধ্যে নাট্য যুদ্ধ করতে করতে গত ২০শে মার্চ বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল রাজদর্শন হল ৩ এ গ্র্যান্ড ফাইনালের মাধ্যমে ডা: প্রিন্স’ই সারা বাংলাদেশে একমাত্র কমেডিয়ান হিসাবে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, কৌতুক অভিনেতা দিলদারের মৃত্যুর পর থেকে চলচ্চিত্রে কমেডিয়ানের যে সংকট দেখা দিয়েছে, সবার দোয়ায় ডা: প্রিন্স সে অভাবটুকু পূরণ করার চেষ্টা করবে। আগামী মাস থেকে ফিল্ম সুপার স্টার ও মনসুন ফিল্ম এর কর্ণদ্বার অনন্ত জলিলের ‘দ্যা স্পাই’ মুভির মধ্য দিয়ে সিনেমায় অগ্রযাত্রা শুরু। নায়ক অনন্ত জলিল ও নায়িকা বর্ষা ডা: প্রিন্সকে অত্যন্ত ভালবাসেন। ডা: প্রিন্স বলেন, আমি স্যার ও ম্যাডামের কাছে সারাজীবন চির ঋণী হয়ে থাকবো। আর ডা: প্রিন্স বাংলাদেশে সেরা কমেডিয়ান হিসাবে নির্বাচিত হওয়াতে সব চাইতে বেশী খুশী হয়েছেন। তার পিতৃতুল্য ছোট বাবা শ্রদ্ধেয় অজিত কান্তি চৌধুরী।

ছোট বেলা থেকে পড়ালেখা থেকে শুরু করে এই বিনোদন মাধ্যম চালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত এবং আদর ও মায়া মমতার সাথে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছে। প্রিন্স বলেন, আমার জীবনে যা কৃতিত্ব আমি সব কিছু আমার ছোট বাবা অজিত কান্তি চৌধুরীকে চরণে উৎসর্গ করলাম। উনি না হলে আমার এই স্বপ্ন দেখা কখনো হতো না। বাবা রনজিত কান্তি চৌধুরী ও মাতা সবিতা রানী চৌধুরী তাদের ৩ ভাই বোনের মধ্যে ডা: প্রিন্সই সবার বড়। আর যারা ডা: প্রিন্সকে এস.এম.এস এর মাধ্যমে শীর্ষপর্যায়ে নিয়ে এসেছেন সবার প্রতি সে কৃতজ্ঞ। সবাইকে সে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। আর তার নিজ গ্রামের বাড়ী বাঁশখালী, থানা কোকদন্ডী গুনাগরী, উত্তর পল্লীগীতা সংঘের সকল সদস্য ও উক্ত গ্রামে সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ডা: প্রিন্সের স্ত্রী ডা: পাপিয়া হালদার ও একমাত্র সন্তান যুবরাজ চৌধুরী সম্রাট সহ পরিবারের সকলের জন্য দোয়া চেয়েছেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া পুরো আয়োজনটিতেই প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ও নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন এস.এম সজীব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন এফ আই দীপু ও পরিচালনায় ছিলেন মোকাদ্দেম বাবু। চূড়ান্ত পর্বের এ অনুষ্ঠানটির প্রাণোচ্ছল উপস্থাপনা করেন দেবাশীষ বিশ্বাস ও আমব্রিন।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.