আন্তর্জাতিক : জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে। আরো বহু সংখ্যক ব্যক্তি ধসে যাওয়া ভবনের নিচে আটকে আছে বলে জানা গেছে।
শনিবার উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। বিভিন্ন ভবনের বাসিন্দারা জিমনেশিয়াম ও হোটেল লবিতে আশ্রয় নিয়েছে। কুমানাতো শহরের কর্মকর্তা তোমোইউকি তানাকা বলেন, প্রতি ঘণ্টায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে আঘাত হানা ৭.৩ মাত্রায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তর ইউএসজিএস এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার প্রথম প্রহরে রাত ১টা ২৫ মিনিটে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামতো প্রদেশে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭। কিয়েশু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির ইউকি শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে, ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে একই অঞ্চলে আঘাত হানে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। ২০১১ সালের পর এটিই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গভীর রাতে এ ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এক মিটার উঁচু সুনামির সর্তকতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করার খবর জানায় স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের পর ২০ মিনিটের মধ্যে ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৮ ও ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আরো দুটি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে কয়েক দফার এসব ভূমিকম্পে ২০১১ সালের সুনামির পর বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে সরকার। এ অবস্থায় নিরাপত্তা ও উদ্ধারের জন্য তৎপর সরকার কুমামতো বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে; বন্ধ করেছে ট্রেন চলাচলও।

Comments are closed.