দিলীপ তালুকদারঃ ঘুষ দিলে বরাদ্ধ মিলে-অবশেষে মুখ খুল্লেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আজম নাসির উদ্দিন।তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,মন্ত্রনালয়ের কিছু দুর্নিতিবাজ কর্মকর্তার কারনে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজ ব্যহত হচ্ছে। মন্ত্রনালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে প্রত্যাশিত বরাদ্দের ৫ শতাংশ দিতে না পারায় দায়িত্ব গ্রহনের প্রথম অর্থবছরে কাঙ্খিত বরাদ্দ পাননি।তিনি বলেন,চসিকের অর্থ ছাড়ে ওরা ফাইভ পারসেন্ট চায়,আবর্জনা সংগ্রহে লোকবল চাইলে বলে বিধান নাই,জলাবদ্ধতা নিরসনে খননের জন্য খাল পারে গেলে দেয়া হয় মামলা।
গতকাল বুধবার এক অনুষ্ঠানে মেয়র নাছির একথা বলেন। চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে ”স্বস্থ্যকর ও নিরাপদ শহর” শীর্ষক নগর সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অথিরি বক্তব্য রাখছিলেন।চট্টগ্রাম চসিক এলাকায় কর্মরত আন্তর্জাতিক,জাতীয় ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা সমূহ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করেন।
প্রধান অথিতির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন,’যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন।তিনি একটি নতুন পাজেরো জীপ চাইলেন।সটি দিলে অর্থ ছাড়ে কোন সমস্যা হবে না।যত টাকা লাগে পাবেন,৫ পারসেন্ট সিসাবে দিতে হবে।আমি কোথা থেকে জিপ দেবো?কেন দেবো?তিনি বল্লেন,কন্ট্রাক্টর কাছ থেকে নিয়ে নিবেন।আমি বললাম তারাতো আমাকে চোর মনে করবে?পত্র পত্রিকায় আসলে কেমন হবে?আমি এও বললাম যে,মন্ত্রনালয়ে ৫শতাংশ দিতে হবে এটা লিখে দেন,তিনি বল্লেন তা দেয়া যাবে না।আমি বললাম সেটা আমি করতে পারবো না।এর পরে সিটি কর্পোরেশনকে দিতে হবে বলে ৮০ কোটি থোক বরাদ্দ দেয়া হল।তাদের শর্তে রাজি হলে হয়তো ৩০০/৩৫০ টাকা পাওয়া যেত। চসিকের প্রধান নির্বাহীর মাধ্যমে আমাকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। টাকা দেইনি বলে সেটা পারিনি।এটাই হলো বাস্তবতা।এ ভাবে দায়িত্ব পালনে পদে পদে বাধা আছে বলে জানিয়ে সিটি মেয়র পরিকল্পিত নগরী গড়তে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহবান জানান।পরিকল্পিত দেশে পরিনত করবো,সমৃদ্ধ করবো এই ধারনা প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে কাজ করলে তাহলেইা সম্ভব পরিবর্তন করা।না হয়,সভা-সেমিনার হাজারো করলেও পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।মানুষ পরিবর্তন হলে আইন আদালত ও পরিবর্তন হবে।
২৫ লাখ মানুষ নগরীতে বাস করে এনজিওদের এমন প্রতিবেদনের জোর আপত্তি জানিয়ে মেয়র বলেন,নগরীতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করে এবং আসপাশের আরো ২৫লাখ মানুষ আসা যাওায়া করে।যেখানে প্রায় ১৯ লাখ ভোটার আছে, সেখানে ২৫ বসবাসকারী কি করে হয়?
