গোলাম সরওয়ার : ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বর্তমান সময়ে সকলের কাছে খুব জনপ্রিয়।বর্তমান সময়ে ফেসবুক শুধু যে অপসংস্কৃতি কিংবা খারাপ কাজে ব্যবহৃত হয় তা নয় তার উদাহরণ ফটিকছড়ির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ।তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে হান্নান নামের এক মেধাবী ছাত্রকে মরণব্যাধী ক্যান্সার থেকে রক্ষা করার জন্য ফেসবুকে সকলের কাছে সাহায্য চেয়ে একের পর এক স্ট্যাটাস পোষ্ট দিলে অনেকেই এগিয়ে আসেন তার চিকিৎসার সাহায্যে। কোনদিন সরাসরি দেখা হয়নি ছেলেটাকে। ভালো করে জানাও হয়নি ছেলেটার জীবনের আর্দ্যোপান্ত। শুধু জানেন, ছেলেটা নাজিরহাট কলেজের একজন মেধাবী ছাত্র। নাম মোহাম্মদ হান্নান। বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন পূর্ব সুয়াবিল ভাঙ্গা দিঘীর পাড় এলাকায়। মাস ধরে শুয়ে আছে চমেক হাসপাতালের বেডে। যার শরীরে বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। কৃষক বাবার শেষ সম্বলটুকু বেঁচে শেষ করেছে আদরের ছেলেটাকে বাঁচাতে। ছেলে কলেজে পড়ে তার আত্মসম্মান নষ্ট হবে, বন্ধুদের কাছে ছোট হয়ে যেতে পারে সেই ভয়ে কারো কাছে হাত পাতেননি বাবা আশিকুর রহমান।
এইটুকু তথ্য পেয়ে ছাত্রটার পাশে দাঁড়ানোর মনোবাসনা ঝেঁকে বসে ফটিকছড়ির প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি, ও সাপ্তাহিক আজকের সুর্যোদয় ফটিকছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদের। ফেইসবুকে নিজের টাইমলাইনে হান্নানকে নিয়ে আবেগময়ী এক স্ট্যাটাস দিলেন, সাথে দিলেন সাহায্য পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নাম্বার। সে থেকে শুরু; কেউ পাঠালেন দুইশ, কেও পাঁচশ কেউ বা হাজার টাকা। সাহায্য প্রদানকারীদের প্রতিজনকে নিয়ে টাকা প্রাপ্তিসহকারে তার ছবি সম্বলিত স্ট্যাটাস দিয়ে মোট সংগ্রহিত টাকার পরিমান জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে জবাবদিহীতার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বহি:প্রকাশ ঘটাতেন তিনি।
দীর্ঘ একমাস যাবৎ চলে এ সংগ্রহ অভিযান। টাকার পরিমান গিয়ে দাঁড়ায় দেড় লক্ষ টাকার উপরে। হান্নানের বাবাকে রোববার সেই টাকাগুলো তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হয়। যা তুলে দেওয়া হয় ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: নজরুল ইসলামের মাধ্যমে। এ সময় সাথে ছিলেন-ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলো‘র সাংবাদিক এস.এম আক্কাছ উদ্দিন, মানবজমিন ও দৈনিক সাঙ্গু‘র মীর মাহফুজ আনাম, প্রিয় চট্টগ্রামের সাইফুর রহমান সোহান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এ সময় বলেন- ফেইসবুকের মাধ্যমেও যে সমাজসেবা করা যায় তার একটি জলন্ত উদাহরণ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ। তার এ ধরণের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
এ সময় তিনি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও নাজিরহাট পৌরসভা থেকেও হান্নানের চিকিৎসা তহবিলে সরকারীভাবে সাহয্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
