পাহাড়ের প্রথম প্রতিবন্ধী স্কুল ও পূনর্বাসন কেন্দ্র

0

মোঃ সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি : পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে রয়েছে পাহাড়ের প্রথম প্রতিবন্ধী স্কুল ও পূনর্বাসন কেন্দ্র। যেটি যাত্রা শুরু করে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে। স্কুলটিতে বর্তমানে ৭৯ জন প্রতিবর্ন্ধী শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ১৫ জন কর্মকর্তা কমচার্রী রয়েছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে এই স্কুল চলেছে নিজের গতিতে। এই স্কুল পরিচালনা করতে অনেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেকের প্রচেষ্টাই পরিচালিত হচ্ছে পাহাড়ের এই প্রথম প্রতিবন্ধী স্কুল ও পূনর্বাসন কেন্দ্র।

এই প্রসঙ্গে স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা তাপসী চাকমা বলেন, আমরা ৬ জন শিক্ষক দিয়ে এই স্কুলটিকে পরিচালনা করছি। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের স্কুল পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের স্কুলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে ফলে তাদের প্রতিদিন স্কুলে আসতে বিভিন্ন সমস্যায় পরতে হয়। যদি আমাদের একটি পরিবহন থাকতো তবে আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুল আসতে পারতো।
তিনি আরো জানান, আমাদের এখানে ৭৯ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাক প্রতিবন্ধী, শারিরীক প্রতিবন্ধী, আটিস্টিক প্রতিবন্ধী এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
হোস্টেলের প্রয়োজনিয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এখানে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অনেক প্রতিবন্ধীরা আসতে চাই তবে আমাদের এখানে আবাসিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে তাদেরকে আমরা রাখতে পারি না। আমাদের এই পূনর্বাসন কেন্দ্র পার্বত্য অঞ্চলের প্রথম প্রতিবন্ধীদের পূনর্বাসন কেন্দ্র তাই আমাদের এখানে আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন দূগম এলাকা থেকে প্রতিবন্ধীরা এখানে এসে আবাসিক সুবিধা গ্রহন করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের জীবনকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলার সুযোগ পেত।
শিক্ষদের সম্মানি প্রসঙ্গে স্কুলের এই প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি এখানে প্রায় ১২ বছর ধরে কর্মরত রয়েছি। আমাদের যে সম্মানি দেওয়া হয় তা আসলে বলার মত নয়। তবে আমরা এখানে যারা কাজ করি সবাই আত্ম মানবতার জন্য কাজ করার মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। না হয় যে বেতন তা দিয়ে আমাদের গাড়ি বাড়াও হয় না। তাই আমরা সরকার ও প্রশাসনকে অনুরোধ করবো আমাদের এই স্কুলকে যাতে সরকারী করা হয়। তাহলে আমরা সরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করতে পারবো।

প্রতিবন্ধী স্কুলের সাধারণ সম্পাদক যিনি শুরু থেকে এই স্কুলের কাজে নিয়োগিত রয়েছেন যার হাত ধরে পথ চলা শুরু হয়েছে এই স্কুল ও পূনর্বাসন কেন্দ্রের, আবছার আলী তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি একটা ঘটনার পরিপেক্ষিতে রাঙামাটিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান করার চিন্তা মাথায় নি। পরে আমরা বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসার পরে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে রাইফেল ক্লাবের একটি রুমে প্রথম এই স্কুলের যাত্রা শুরু করি। পরে রাইফেল ক্লাবের কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে গেলে আমরা এই স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ভবন নির্মাণ করা হয় এছাড়া স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে জেলা পরিষদ থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা বার্ষিক অনুদান দেওয়া হয় তাই দিয়ে মূলত আমরা স্কুল পরিচালনা করে থাকি। এছাড়া সমাজ সেবা থেকে আমাদেরকে বার্ষিক ২০-২৫ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়। আবার জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন থেকে এই পর্যন্ত শুধু মাত্র দুইবার ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে আবছার আলী বলেন, যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারে না আমরা তাদেরকে বাসায় গিয়ে হাজিরা এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকারি পাঠ সূচী অনুসারে আমাদের এখানে ১ম শ্রেণি হতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলে-মেয়েদেরকে পড়ালেখা করানো হয়। এর পাশাপাশি তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণ হিসাবে কম্পিউটার ও সেলাই কাজ শেখানো হয়। আমরা অনেক সময় বিসিক ও মহিলা সংস্থারও সহযোগিতা নিয়ে অনেক প্রতিবন্ধীদেরকে প্রশিক্ষন দিয়ে থাকি।
সকল প্রতিকূলতা রোধ করে এই স্কুল ও পূনর্বাসনকে প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসিক, খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণের পূর্ণ সুযোগসহ প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স করার স্বপ্ন আছে বলে জানান তিনি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি সকলের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.