অনলাইন ডেক্স : ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজ মারা গেছেন।
বুধবার সকাল সাতটায় তেল আবিবের সেবা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
শিমন পেরেজের পরিবারের এক শোকবার্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেজ।
শোকবার্তায় বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে তেল হাশোমের এলাকার হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন পেরেজ।
তার স্বাস্থ্যের অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে বুধবার তিনি মারা যান।
শুক্রবার শিমন পেরেজের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকালে জনসাধারণ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
শিমন পেরেজ ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন হাগানাহ’র কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের জমি দখলের জন্য কুখ্যাত সংগঠন হাগানাহই পরবর্তীতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে পরিণত হয়। এ বাহিনী এখনও ফিলিস্তিনিদের নিয়মিত হত্যা করার জন্য অভিযুক্ত।
হাগানাহ’র পরে শিমন পেরেজ আইন পেশায় নিযুক্ত হন। পরে রাজনীতিতে নেমে তিনবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও একবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিমন পেরেজ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালেই ইসরাইলে গোপন পারমাণবিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ইমেইল থেকে জানা গেছে, ইসরাইলের কাছে দুইশ’পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে ১৯৯৩ সালে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি হয়। এর জন্য পরের বছর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান শিমন পেরেজ।
তবে ওই শান্তিচুক্তি কখনোই মানেনি ইসরাইল এবং তাদের বিতর্কিত বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন ইয়াসির আরাফাত। পরে প্যারিসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০০৪ সালে মারা যান ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রামের এ মহান নেতা।
