সিটিনিউজবিডি : দেবী দুর্গার নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে মহাসপ্তমী পূজা। আজ রোববার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা।
এদিন ভোরে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি বিহিত পূজা শেষে সন্ধ্যায় সন্ধিপূজা হয়েছে। অষ্টমী পূজা শেষে অঙ্গুলী প্রদান ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ কয়েকটি স্থানে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
রামকৃষ্ণ মঠে মহাঅষ্টমী পূজা শেষে বেলা ১১টা থেকে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের তন্ত্রধারী স্থিরাত্মানন্দ মহারাজ (নিরঞ্জন মহারাজ) জানান, মহাষ্টমীর দিন সকাল ১১টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা যে জগতমাতার (দেবী দুর্গা) আরাধনা করি তিনি সকল নারীর মধ্যে মাতৃরূপে আছেন। এ উপলব্ধি সকলের মধ্যে জাগ্রত করার জন্যই কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দুর্গা মাতৃভাবের প্রতীক আর কুমারী নারীর প্রতীক। কুমারীর মধ্যে মাতৃভাব প্রতিষ্ঠাই এ পূজার মূল লক্ষ্য।
কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেবী দুর্গার সামনে বসিয়ে ঠিক যেভাবে তার (দুর্গার) আরাধনা করা হয়, একইভাবে কুমারীকে সে সম্মান প্রদান করা হয়। শুধু মাটির প্রতিমা নয়, নারীর মধ্যেও মাতৃভাব আনা হয়।
বিশুদ্ধ স্বভাবের গুণাবলী দেখে একজন নারীকে কুমারী হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া পূজার আগ পর্যন্ত কুমারীর পরিচয় গোপন রাখা হয় বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, এবার সারাদেশে ২৯ হাজার ৩৯৫টি স্থায়ী, অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে যা গত বছরের তুলনায় ৩২৪টি বেশি। আর রাজধানী ঢাকায় পূজা অনুষ্ঠিত হবে ২২৯টি মণ্ডপে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
