নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চন্দনাইশ থানা পুলিশের চাঁদাবাজি এখন প্রকাশ্যে। সকাল থেকে শুরু করে দিনভর মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে গাড়ি তল্লাশির নামে এই চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তা নয় গাড়ির কাগজপত্র ত্রুটি থাকার ইস্যু তুলে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
দূরপাল্লার চেয়ারকোচ দাঁড় করিয়ে গাড়ি তল্লাশির নামে দীর্ঘক্ষণ যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখায় যাত্রীরা ঠিক সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারছে না। চন্দনাইশ থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উল্ল্হা যোগদানের পর থেকে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও হয়রানি আরো একধাপ বেড়ে গেছে। ওসির নির্দেশেই প্রতিদিন থানার এস.আই মো. আলী গাছবাড়িয়া কলেজ গেইটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অফিস এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। বিষয়টি স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্যকেও জানিয়েছেন বলেও জানা যায়।
এদিকে গাড়ি তল্লাশির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে থানা পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে। এ কারণেই সম্প্রতি দুইজন অফিসার থানা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন। তার মধ্যে অপর একজন বদলী হয়েও অন্য থানায় যেতে পারছেন না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।
সূত্রমতে আরও জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশে প্রতিদিন এখন গাড়ি তল্লাশির নামে হাজার হাজার টাকা পুলিশ হাতিয়ে নিচ্ছেন। অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উল্লাহ পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) থেকে প্রমোশন পেয়ে চলতি বছরের ২৫ মে চন্দনাইশ থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের আগে চন্দনাইশ থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন মহাসড়কে একটি ট্রাক তল্লাশি করে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। কিন্তু মামলায় শুধুমাত্র ৬ হাজার পিস ইয়াবা দেখালে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। যার কারণে তৎকালীন ওসিকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়। এরপর শেখ নেয়ামত উল্লাহ চন্দনাইশ থানায় ওসি হিসেবে গত ২৫ মে যোগদান করেন। এর আগে দীর্ঘ কয়েক বছর পটিয়া থানায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নিয়মকানুন না মেনেই মহাসড়কের গাছবাড়িয়া এলাকায় প্রতিদিন যাত্রীবাহী দুরপাল্লার বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রো, সিএনজি, বাইক, মালবাহী পিকআপ, ট্রাক তল্লাশির নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় বাস ও সিএনজি মালিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দূর পাল্লার একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চন্দনাইশে গাড়ি তল্লাশির নামে পৌনে এক ঘন্টা তাদের গাড়ি আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। পরে এস.আই মো. আলী টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চন্দনাইশ থানার একজন পুলিশ অফিসার জানান, গাড়ি তল্লাশি, ওয়ারেন্ট আসামী ধরা, ছেড়ে দেয়া এবং তল্লাশির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ওসি নেয়ামত উল্লাহ’র সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেয়।
সম্প্রতি চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার বদলী হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
