গৃহায়ণের গৃহ নিতে পারবে না সীমিত আয়ের মানুষ

0

দিলীপ তালুকদার : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের অধীনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আবাসিক ফ্ল্যাট ও প্লট বরাদ্দের নামে দেশের সীমিত আয়ের মানুষের সাথে তামাশা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক ফ্ল্যাট নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিগন। গত ১৩ নভেম্বর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম নগর ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট ও প্লট বরাদ্ধের নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহবান করে।তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর হাউজিং এস্টেটে সীমিত আয়ের লোকদের জন্য ১২২৪ বর্গফুটের ২৬০টি,ফিরোজ শাহ্ ও হালিশহর হাউজিং এস্টেটে ৭৬ টি টিনসেট বাড়ির স্থলে সীমিত আয়ের লোকদের জন্য ৬৭০ টি,কক্সবাজার তুলাতলিতে ৪৫৯ টি,মীরসরাই উপজেলার কিসমত জাফরাবাদ এলাকায় মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট,একই উপজেলার সোনা পাহাড় এলাকায় মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য বানিজ্যিক প্লট বরাদ্ধ দেবার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ প্রচারিত প্রসপেক্টাস্ সূত্রে জানা যায়,তারা সীমিত আয়ের মানুষদের কথা বললেও সীমিত ও স্বল্প আয়ের মানুষ ফ্ল্যাট বা প্লটের কাছাকাছিও ভিড়তে পারবেন না। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ২০ বৎসর মেয়াদি কিস্তির কথা বললেও সেখানে রয়েছে অতিরিক্ত টাকা ও সুদ আদায়ের কৌশল। হালিশহর হাউজিং এস্টেটের ১২২৪ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের সর্বমোট মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। যা প্রকারান্তরে দাঁড়ায় ৬০ লাখ ৮৩ হাজার টাকার উপরে। আবেদন পত্র জমাদানের সাথে ২ লাখ টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। যাচাই বাছাই এর পর ফø্যাট পেলে ২ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধ হিসেবে কেটে নেয়া হবে। ফ্ল্যাটের মোট মূল্যের বাদবাকী টাকার ৫০% টাকা নির্মাণকালীন সময়ে ৪ বৎসরে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মোট ১৬ কিস্তিতে ফ্ল্যাটের দখল গ্রহনের পূর্বেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
জানা যায়,বাদবাকি টাকার ৫০% টাকা বিনাসুদে ৪ বৎসরে ত্রৈমাসিক হিসেবে সর্বমোট ১৬ কিস্তিতে মোট টাকা দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৪১ হাজার ৫ শত টাকা। ত্রৈমাসিক কিস্তি পড়ে ১,৭১,৩৪৩.৭৪ টাকা। প্রতিমাসে কিস্তি পড়ে ৫৭,১১৪.৫৮ টাকা। যা সীমিত বা স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে কিস্তি দেয়া কোন মতেই সম্ভব নয়। বাদবাকী ৫০% টাকা ১৬ বছরে মোট ১৯২ কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সেকেত্রে সুদ গুনতে হবে আরো প্রায় ২ লাখ টাকা। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়ে কিস্তি দিতে না পারলে বিভিন্ন পেনাল্টি হিসেবে ১১% থেকে ২১% পর্যন্ত সদ গুনতে হবে। কিন্তু কোন গ্রাহক কোন কারনে মাঝপথে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১০% কেটে রেখে গ্রাহকের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরৎ দেয়া হবে।
গাড়ী পার্কিং এর জন্য অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। যা ৬ কিস্তিতে পরিশোধ যোগ্য। যেখানে প্রাইভেট হোল্ডিংস কোম্পানী গুলো পার্কিং এর জন্য খরচ নেয় ২ লাখ টাকা। সব মিলে একটি ফ্ল্যাটের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। কর্তৃপক্ষ ফরম ও প্রসপেক্টাস মূল্য নেয়া হচ্ছে প্রতিটি ১ হাজার টাকা।
একটি সূত্রে জানা যায়,উক্ত প্রকল্পে পূর্বেও একবার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছিলেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে এবার ২য় বার আহবান করলো। ফ্ল্যাট নিতে আগ্রহী আহমদ আব্দুর রহিম ১ হাজার টাকায় ফরম ও প্রসপেক্টাস কিনে সব পর্যালোচনা করে হতাশ। তিনি বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সীমিত আয়ের মানুষের কথা বলে প্রকান্তরে হোল্ডিংস্ ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছেন। কারন কোন সীমিত আয়ের মানুষ এই প্লট বা ফ্ল্যাট নিতে পারবেন না।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.