আন্তর্জাতিক : যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাজ্য উইসকনসিন, মিশিগান এবং পেনসিলভেনিয়ায় ভোট পুনরায় গণনার উদ্যোগকে ‘ফাজলামী’ (স্ক্যাম) বলে অভিহিত করলেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রীণ পার্টির প্রার্থী জিল স্টাইন ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করায় পুনরায় ভোট গণনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ নভেম্বর শনিবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘আর এই পুনর্গণনার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে জিল স্টাইনের ইচ্ছা অনুযায়ী, যিনি গৃহিত ভোটের ১ শতাংশেরও কম পেয়েছেন। এমনকি অনেক রাজ্যের ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে তার নামও ছিল না। নগদ অর্থ কামানোর অভিপ্রায়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছেন, যার কিয়দংশও ব্যয় করবেন না এই উদ্ভট প্রক্রিয়ায়।’
এদিকে শনিবার সকালে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণা টিমের আইন বিষয়ক পরামর্শক মার্ক ইলিয়াস বলেছেন যে, উইসকনসিনের সাথে মিশিগান ও পেনসিলভেনিয়ার মত ব্যাটেল গ্রাউন্ড রাজ্যসমূহের ভোট পুনরায় গণনার পক্ষে তারা অবস্থান নিতে পারেন।
এদিকে, উইসকনসিন ইলেকশন বোর্ডের কর্মকর্তারা জিল স্টাইনের পুনরায় ভোট গণনার আবেদনে সাড়া দিয়েছেন ২৫ নভেম্বর শুক্রবার। কারণ, জিল স্টাইন নিশ্চিত হতে চেয়েছেন যে, ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট গ্রহণকালে কম্প্যুটারগুলো হ্যাকিংয়ের শিকার হয়নি। হিলারি ক্লিনটনের কাউন্সেল ইলিয়াস ‘মিডিয়াম’ ওয়েবসাইটে প্রদত্ত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ভোটিং সিস্টেম কোন ধরনের হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি নিজেরা পরিচালিত তদন্তে। এজন্যে আমরা পুণর্গননার পথে যাইনি।’
উল্লেখ্য যে, ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে ট্রাম্প জয়ী হলেও পপুলার ভোট ট্রাম্পের চেয়ে ২০ লাখ বেশী পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। এখনো কয়েকটি এলাকার রেজাল্ট চুড়ান্ত হয়নি। এদিকে, জিল স্টাইন ইতিমধ্যেই ৫.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন পুনরায় ভোট গণনার জন্যে। ঐ ৩ রাজ্যের ভোট পুনরায় গণনার জন্যে প্রয়োজন ৭ মিলিয়ন ডলার। এ অর্থ লাগবে পুনরায় গণনা ছাড়াও আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বনের জন্যে। ২৮ নভেম্বর সোমবার হচ্ছে শেষ সময় পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে পুনরায় গণনার আবেদন করার। ৩০ নভেম্বর বুধবারের মধ্যে মিশিগানে আবেদন করতে হবে। পেনসিলভেনিয়ায় হিলারির চেয়ে ৭০ হাজার ১০ ভোট বেশী পেয়েছেন ট্রাম্প। অপরদিকে মিশিগানে হিলারির চেয়ে ১০ হাজার ৭০৪ ভোট বেশী পেয়েছেন ট্রাম্প। উইসকনসিনে হিলারির চেয়ে ট্রাম্পের ভোট বেশী ২৭ হাজার ২৫৭। এ ৩টি রাজ্যেই যদি হিলারি জয়ী হতে পারেন, তাহলেই নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে যাবে এবং সে প্রত্যাশা নিয়েই জিল স্টাইনের আহবানে ব্যাপক সাড়া পড়েছে সমগ্র আমেরিকায়।
ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি বিলুপ্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই ইউএস সিনেটে গত ১৫ নভেম্বর একটি বিল উঠিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস সিনেটর বারবারা বক্সার। এ দাবিতে গোটা আমেরিকায় লাগাতার বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযানও পরিলক্ষিত হয় ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের পর।
