ডিবি পুলিশের কনস্টেবল শের আলীর মানবিক দৃষ্টান্ত

0

সিটিনিউজবিডি : পাষাণ পৃথিবী, স্বার্থের জন্য ছুটছি সবাই। আজব দুনিয়া! প্রতিদিন হিংসা বিদ্বেষ বাড়ছে মায়া মমতা কমছে। চারিদিকে যেন রক্তের হলিখেলা। বাড়ছে শত্রুতা। স্বার্থের কাছে সবাই এক প্রকার অন্ধ! ব্যতিক্রমও যে নেই তা নয়, যেমন সিএমপি ডিবি পুলিশ শের আলী। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে যিনি কবি শের আলী নামেও পরিচিত। আমাদের কবি শের আলী অন্যের জন্য কাঁদলেন, নিঃস্বার্থ ভাবে ঝরে পড়া অশ্রু বিন্দু দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন মানুষ মানুষের জন্য।

গতকাল ১১ ডিসেম্বর রবিবার দুপুর ১ টায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর রশিদনগরে ইউনিক পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে গিয়ে ৪ জন নিহত হয়। আহত হয় ২৫ জনের বেশি। ওই বাসের নিচে চাপা পড়ে একটি ছোট্ট শিশু।
তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রক্তাক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে আনেন স্থানীয় বাসিন্দা শের আলী। উদ্ধার করা মাত্রই কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রক্তাক্ত শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে সর্ব শক্তি দিয়ে দৌঁড়ানো শুরু করেন শের আলী! দৌঁড়ানোর সাথে সাথে অপরিচিত এই শিশুটির জন্য চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। তার কান্নায় শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবেশ সবাই অবাক। শিশুটির কষ্ট ও যন্ত্রণা দেখেই অঝোরে কেঁদেছেন তিনি যেন আপন কেউ। ওই সময় শের আলীর কান্না দেখে উপস্থিত জনতাও চোখের পানি আটকাতে পারেননি। শের আলী আর হাজারো মানুষের দোয়া আর কান্না আল্লাহ কবুল করেছেন। শিশু উম্মে হাবিবা এখন আশংকামুক্ত।
শের আলীর চরিত্রই আসল চরিত্র। এটাই হচ্ছে মানবতা। মানবিকতা ও উত্তম চরিত্রের উদাহরণ। সমাজে এই মানুষ গুলি হারিয়ে যাচ্ছে। তাকে মুল্যায়ন না করলে হয়তো অকৃতজ্ঞই থেকে যাবো আমরা। আসুন আমরা বদলাই, তাহলে বদলাবে সমাজ, বদলে যাবে প্রিয় দেশ।

উল্লেখ্য যে, জনদরদী এই পুলিশ সদস্য কনস্টেবল শের আলী বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর ডিবি পুলিশে কর্মরত। নিজ বাড়ীতে ছুটি ভোগকালীন তিনি এই মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.