বিজয়ী জাতি হিসাবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে বলতে চাই আমরা বাঙালি : এমপি আফছারুল

0

সিটিনিউজবিডি : সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ আফছারুল আমিন এম.পি বলেছেন, সবসময় মনে রাখতে হবে আমরা বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। সুতরাং আমরা উন্নয়নের কোনো ক্ষেত্রেই আর পিছিয়ে থাকতে পারি না। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে সবসময় মাথা উঁচু করে বলতে চাই আমরা বাঙালি। বাংলাদেশ যে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে তা ধরে রাখতে মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে গড়ে তুলি। বিশ্বে কেউ যেন বাংলাদেশকে অবহেলা করতে না পারে, সেভাবে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল বিকেলে নগরীর ডিসি হিল নজরুল স্কোয়ার প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বিজয়ের মাসে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিবে বঙ্গবন্ধু বইমেলা এবং বই হচ্ছে জ্ঞান অর্জন ও পরিবর্তনের বাহন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে সারাদেশের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রামে বইমেলা আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই জন্য চট্টগ্রামবাসী হিসেবে গর্ববোধ করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, কম্পিউটার আমাদের সন্তানদের চিন্তার জগৎকে সংকীর্ণ করে দিয়েছে। তাদের কল্পনা, শক্তিও দুর্বল কারণ মস্তিস্কের কর্ষনও নেই। আগে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পারিবারিক লাইব্রেরী ছিল এখান থেকে মন চর্চ হতো আজ সময় পাল্টেছে। তরুণদের একটি বড় অংশ ফেসবুকে মজে আছে। তাদের বই পড়ার আগ্রহ অভ্যস্ত করতে হবে। মুখ্য আলোচকের ভাষণে সংসদ সদস্য এম.এ.লতিফ এম.পি বলেছেন, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা…লিখেছিলেন একশ’বছরেরও বেশি আগে। তারও অনেক আগে থেকে আমাদের এই প্রিয় ভূ-খন্ড পরিচিত ছিল সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা হিসেবে।

কিন্তু ছন্দপতন ঘটে প্রথমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে এবং ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তানের দুঃশাসন-শোষণের দু’যুগে। আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। শিক্ষার প্রসারে নজর ছিলনা। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পূর্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যতাযথই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘সোনার বাংলার’ শাসন কেন? তিনি ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার এবং তাতে কেবল সাড়া নয়, স্বক্রিয়ভাবে শামিল হয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি। এই ঐক্যই ছিল আমাদের বিজয়ের মূল প্রেরণা। কিন্তু এই স্বাধীনতার সংগ্রাম চলাকালেই বিশ্বব্যাংক ও উন্নত বিশ্বের তথাকথিত একদল পন্ডিতের ভবিদ্ব্যাণী ছিল- প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, জনগণের বেশিরভাগ অশিক্ষিত, নারী সমাজ অবরোধবাসিনী। এ দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে থাকবে। পশ্চ্যাৎপদ থাকায় বাংলাদেশের ললাট লিখন।

দেশটি উন্নত বিশ্বের বাস্কেট হয়ে থাকবে। পরনির্ভরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর বাংলাদেশ বিশ্বসমাজের কাছে নতুন মর্যাদায় সম্মানিত হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেল এখন বিশ্বে সমাদৃত। ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকবে না পরিণত হবে উন্নয়নশীল দেশে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল নিজের পায়ে দাঁড়াতে, শোষণ-বঞ্চনা-পরনির্ভরতা ঝেড়ে ফেলতে। লক্ষ্য-উদ্দেশ্য যে নির্ভুল ছিল, সেটা প্রমাণিত। তবে আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই। আমাদের উন্নয়নের গতি আরও বেগবান করার সুয়োগ রয়েছে। এর জন্য রাজনৈতিক অঙ্গণে যেমন- স্থিতিশীলতা চাই, তেমনি নজর দিতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পথে বিগ্ন হয়ে থাকা অবকাঠামোগত সমস্যা কমিয়ে আনার প্রতি।
বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু’র সভাপতিত্বে মেলার প্রধান সমন্বয়কারী সংস্কৃতি কর্মী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর পরিকল্পনাবিদ চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিউশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলী আশরাফ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন, চসিক কাউন্সিলর আলহাজ্ব এইচ.এম. সোহেল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক চৌধুরী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, দৈনিক মুক্তিবাণী’র সম্পাদক নারীনেত্রী ববিতা বড়ুয়া, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, ক্রীড়া সংগঠক লায়ন মোহাম্মদ ইলিয়াছ, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- সাংস্কৃতিক সংগঠক এডভোকেট কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, উপস্থিত ছিলেন মেলা পরিষদের কার্যকরী মহাসচিব সুমন দেবনাথ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় চারনেতা স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত, ফয়সাল বাপ্পী প্রমুখ। সভার শুরুতে দলীয় সংগীত, দলীয় নৃত্য, বৃন্দ আবৃত্তি, একক সংগীতানুষ্ঠান, মুখাভিনয়, কবিতা পাঠ করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিল্পীবৃন্দ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.