স্পোর্টস ডেস্ক:: হায়দারাবাদ টেস্টে প্রথম দিনে করা ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান নিয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছে ভারত। অধিনায়ক বিরাট কোহলির ডাবল সেঞ্চুরির ওপর ভর করে রানের পাহাড় গড়ছে স্বাগতিক ভারত।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ১৪৭ ওভারে ৬ উইকেটে ৫৯৬ রান। ঋধিমান সাহা ৬৪ ও জাদেজা ৭ রান করে উইকেটে রয়েছে। এর আগে লোকেশ রাহুল ২, মুরালি বিজয় ১০৮, পূজারা ৮৩ , রাহানে ৮২ ও অশ্বিন ৩৪ রান করে ফিরে গেছেন।
এর আগেদ্বিতীয় দিন প্রথম উইকেট পতন ঘটে ৪৫৬ রানে। ইনিংসের ১১৪তম ওভারে এসে তাইজুলের অফ ষ্ট্যাম্পের বাইরে বলে পরাস্ত হয়ে বাতাসে ড্রাইভ করে বসে রাহানে। শর্ট কাভারে থাকা মিরাজ তার বাম দিকে লাফিয়ে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়ে রাহানেকে ৮২ রানে সাজঘরে ফেরান। দলীয় রান তখন চার উইকেটে ৪৫৬ রান।
দলীয় ৪৯৫ রানে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে সাজঘরে ফেরালেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। কোহলি ব্যক্তিগত ২০৪ রান করে আউট হন।
কোহলির বিদায়ের পর অবশ্য ভাগ্য প্রসন্ন হয়নি বাংলাদেশের। সাহা ও অশ্বিন দ্রুত ব্যাট চালিয়ে ভারতের রান বাড়াতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করে আউট হন অশ্বিন। দলের রান তখন ৫৬৮ রান ছয় উইকেটে। একই ওভারে মিরাজের আর্ম বল থেকে রক্ষা পান বাঁহাতি রবিন্দ্র জাদেজা।
বাংলাদেশর হয়ে বল হাতে তাইজুল ৩টি, তাসকিন ও মিরাজ ১টি করে উইকেট নেন।
এ আগে বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্বান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি। বল হাতে পেয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারেই জ্বলে ওঠেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। নিজের চতুর্থ ডেলিভারিতে ভারতের ওপেনার লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করেন তাসকিন। ২ রানে ফিরেন রাহুল।
ম্যাচের শুরুটা দিনের সূর্যের মত আলোকিত হওয়ায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এতে কিছুটা সর্তক অবস্থান নেয় ভারতের আরেক ওপেনার মুরালি বিজয় ও তিন নম্বরে ব্যাটিং-এ নামা চেতেশ্বর পূজারা। তবে দ্রুতই সর্তক অবস্থান থেকে সরে আসেন বিজয় ও পূজারা। উইকেটের সাথে মানিয়ে নিয়ে, বাংলাদেশ বোলারদের পরিকল্পনা কব্জা করে ফেলেন তারা। ফলে ১ উইকেটে ৮৬ রান তুলে টেস্টের প্রথম সেশন করেন বিজয় ও পূজারা। অবশ্য দলীয় ৬৭ রানের বিচ্ছিন্ন হতে পারতেন তারা। যদি সহজ রান আউটের সুযোগটি নষ্ট না করতেন বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি। তাই এ যাত্রায় বেঁচে যান বিজয়।
দ্বিতীয় সেশনেও ব্যাট হাতে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন বিজয় ও পূজারা। তাতে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছিলেন দু’জনই। কিন্তু পূজারার স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন অফ-স্পিনার মিরাজ। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো বাংলাদেশ দলপতির সহায়তা নিয়ে ব্যক্তিগত ৯০ রানে পূজারাকে থামান মিরাজ। এতে ভেঙ্গে যায় ১৭৮ রানের জুটি।
পূজারা তিন অংকে পা রাখতে না পারলেও, সেঞ্চুরি করেছেন বিজয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেঞ্চুরির পর খুব বেশি দূর যেতে পারেননি বিজয়। বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ১০৮ রানে থামেন বিজয়। তার ১৬০ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো।
দলীয় ২৩৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পরও রানের চাকা সচল ছিলো অধিনায়ক কোহলির ব্যাটিং দৃঢ়তায়। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ১৩০ বলেই সেঞ্চুরি করেন কোহলি। টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ১৬তম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার দলপতি।
