জাহেদুল হক,আনোয়ারা::সরকারিভাবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো পালন করার নির্দেশনা থাকলেও আনোয়ারায় সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ,বিজয়ের ভাস্কর্য বা শহীদ মিনার কোনটিই নেই। অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ও ভাষা আন্দোলনের শহীদ মিনার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতি স্তম্ভ বা শহীদ মিনার না থাকায় ৫২’র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়,উপজেলার বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শহীদ মিনার থাকলেও সিংহভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন ও মাদরাসায় স্মৃতি স্তম্ভ বা শহীদ মিনার নেই। আনোয়ারা উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে হাতে গোনা ৮টি স্কুলে শহীদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে উপজেলায় ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার আছে শুধুমাত্র ১২টিতে। এছাড়া উপজেলায় ১১টি মাদরাসা ও ৩২টি কেজি স্কুলের মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার বা স্মৃতি স্তম্ভ নেই। ফলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা ধারণ ও লালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার বা শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে প্রতিবছর জাতীয় দিবস সমুহে চাঁদা তুলে কলাগাছ বা কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিবসগুলো পালন করতে দেখা যায়।
উত্তর জুঁইদন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমা চৌধুরী জানান,তার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় আধা কিলোমিটার দুরে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। পরে বিদ্যালয়ে ফিরে ভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বখতিয়ারপাড়া চারপীর আউলিয়া (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ওসমান গনী বলেন,মায়ের মুখের ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য সারাবিশ্বে একটি মাত্র জাতি রক্ত দিয়েছে। আর সেই গৌরবের জাতি হচ্ছে বাঙালী জাতি। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের দরবারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বের দেশসমুহে দিবসটি পালন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা লালন করতে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার বা স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা জরুরি।
দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী চৌধুরী ইনকিলাবকে জানান,শৈশব ও কৈশোর কাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নব প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার বা শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ থাকা প্রয়োজন। এ লক্ষে সুদৃশ্য নকশা সম্বলিত বিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে মাত্র কয়েকবছর আগে। এরইমধ্যে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো স্থাপনার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো.হারুনুর রশিদ বলেন,সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ দেয়া হয় না। তাই অনেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। তবে যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই,সেসব বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে কমিটির মাধ্যমে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.শফিউল আজম জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার বা স্মৃতি স্তম্ভ থাকা প্রয়োজন। এ কাজে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিভাগের আরও খবর
