সিটিনিউজ ডেস্ক:: আগামী বছর থেকে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন আর কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে ছাপা হবে না। বরং জেলা পর্যায়ে প্রশ্ন ছাপিয়ে তা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এ কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এভাবে প্রশ্ন ছাপা হলে ঝামেলা কমার পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো যাবে।
রবিবার রাজধানীর ঢাকা কলেজে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এখন পর্যন্ত প্রশ্নপত্র রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেসে ছাপানো হয়। এখান থেকে সিলগালা করে তার জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। আর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে তা পৌঁছে দেয়া হয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে সেগুলো মাঠ পর্যায়ে পাঠানোর কোনো পর্যায় থেকে সেগুলো ফাঁস হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিজি প্রেসের কর্মীরাও আছেন সন্দেহের তালিকায়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হতেই এই ডিজিটাল প্রশ্ন ছাপানোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। এর সাথে স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র ছেপে কেন্দ্রগুলোতে বিতরণ করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, ‘প্রশ্নপত্র সংগ্রহের সময় দুটি কলেজের তিনজন শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে এই শিক্ষক কারা এবং তারা কোন কলেজে পড়ান, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘কোনো শিক্ষক যদি পরীক্ষার কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন, তাহলে তারা বেআইনি কাজ করেছেন। তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।’
সারাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারে সারাদেশে ১০টি শিক্ষাবোর্ড থেকে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন ছাত্র ও ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন ছাত্রী। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এসএসসি পরীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। তবে এখনও এই প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আর এইচএসসি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ১৫ মে।
