বশির আলমামুন,চকরিয়া : চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত বাঘগুজারা রাবার ড্যাম মেরামতের নামে সিংহভাগ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। নাম সর্বস্ব একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজস করে নির্বাহী প্রকৌশলী বিনা টেন্ডারে রাবার ড্যাম মেরামতের নামে কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। তবে জানুয়ারী মাসে মেরামত করা এ রাবার ড্যামটি দিয়ে পূনরায় পানি সরছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা রাবার ড্যাম দিয়ে পানি সরে যাওয়ায় সরকারের মহতি উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। এতে করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত সবুজ বিপ্লব কর্মসূচীতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, মাতামুহুরী নদীর সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩সালে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পালাকাটা ও বাঘগুজারা অংশে দু’টি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, রাবার ড্যাম দুটি নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটি চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিম্মমানের রড, সিমেন্ট, বালি ও পাথর ব্যবহার করে সিডিউল বর্হিভূত কাজ সম্পন্ন করে।
এদিকে তড়িঘড়ি করে নিম্মমানের উপকরণ দিয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করায় বছর যেতে না যেতেই নির্মিত রাবার ড্যাম দুটিতে নানা ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে বোরো উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। 
এ অবস্থায় একটি প্রভাবশালী মহল রাবার ড্যামের ত্রুটি মেরামতের নামে দুই দফায় কোটি টাকা আত্মসাত করে। এ বছরের জানুয়ারীর দিকে একইভাবে ত্রুটিপূর্ন বাঘগুজারা রাবারটি মেরামতের নামে আবারও প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা গেছে, জানুয়ারীর দিকে বোরো মৌসুমের শুরুতে বাঘগুজারা অক্ষত রাবার ড্যামের রাবার ব্যাগ ছিড়ে গেছে এমন অজুহাত দেখিয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড রাবার মেরামতের জন্য সরকারের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ আনে। পরবর্তীতে বিনা টেন্ডারে একব্যক্তির মাধ্যমে ড্যামের দুই পাশে নদীর পানি আটকানোর জন্য দুটি অস্থায়ী মাটির বাধ নির্মাণ করা হয়। যা ছিলো সম্পূর্ন অপ্রয়োজনীয়।
স্থানীয়রা জানান, অক্ষত রাবার ড্যাম মেরামতের নামে বাঘগুজারা এলাকায় ড্যামের দুইপাশে দুটি মাটির বাধ নির্মাণ করে পানি বোর্ড ও প্রভাবশালী মহলটি দুই কোটি টাকা লুটপাট করাতে সচেতনমহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রাবার ড্যামটি মেরামতের সময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রাবারের উপরের অংশে অল্পটুকু ফুটো হয়। যা মাটির বাধ ছাড়াই মেরামত সম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজসের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ও দায়সারাভাবে দুটি মাটির বাধ নির্মাণ করে ও রাবারের মেরামত দেখিয়ে বরাদ্দ দেওয়া দুই কোটি টাকার মধ্যে সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা তারেক বিন ছগির জানান; দু’টি মাটির বাঁধ নির্মাণ, রাবার ড্যামের তলায় নতুন করে ঢালায়ের কাজ, রাবারের জোড়া খুলে আবার লাগানো, সেলাই কাজ, নতুন নাটবল্টু, নাটবল্টুর উপরে রং, ব্যাগের ভেতরে বাইরের পলি অপসারণসহ সরবরাহ লাইনের বাইরের অংশেও কিছু কাজ করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বাঘগুজারা রাবার ড্যামটি মেরামতে চরম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। যেনতেন ভাবে, জোড়াতালি দিয়ে কাজ করা হয়েছে। এভাবে মেরামত কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে এখন চাহিদাপত্র অনুযায়ী অবশিষ্ট টাকা উত্তোলন করে পুরো টাকা আত্মসাতে প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়; মাটির বাঁধ দু’টি নির্মাণে ১৮ থেকে ২০লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। রাবার ড্যামের মেরামতের জন্য জনবল খরচ ও মালামাল ক্রয়ে ৫০-৬০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।
এব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, ওই সময় পালাকাটা রাবার ড্যামের মেরামতের জন্য দুই কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। সিংহভাগ টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পালাকাটা ও বাঘগুজারা রাবার ড্যামের মেরামতের কাজগুলো স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের লোক দিয়েই করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও তদারকি করেছেন। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন তদন্ত ঠিম ইতোমধ্যে তিনবার তদন্ত করে গেছেন। দুর্নীতি হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই বলে তিনি দাবী করেছেন।
