সিটিনিউজ ডেস্ক::উপকূলীয় অঞ্চলের জেলা প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি বিবেচনা করে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, গবাদি পশুর নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থাকরণ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বেশকিছু সহায়তামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সভাকক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্তি সচিব গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূণিঝড় ‘মোরা’বাংলাদেশ উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর এবং পায়রা ও মোংলা বন্দরকে পাঁচ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এবং বন্দর জেটিতে থাকা সব জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এডিয়ে জানমাল রক্ষার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিতে সোমবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সমন্বয় সভা আহবান করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
সচিব বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিশ্চিত করবেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনাররা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। উপজেলা সিপিপি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদেরকে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
গোলাম মোস্তফা আরো বলেন, ‘মহাবিপদের সময় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল বা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল থেকে জনসাধারণকে উদ্ধার করার জন্য জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্থানীয়ভাবে নৌযান প্রস্তুত রাখতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রণালয় ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত সংকেত গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত অনুযায়ী সকল মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার চলাচলের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
সচিব জানান, দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্য আদান প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব জি এম আব্দুল কাদেরের সঙ্গে ০১১৯৫২৪৩৬৩৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও এনডিআরসিসি কন্ট্রোল রুম থেকে সংশ্লিষ্ট সব জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
