চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা সরাসরি হজ্ব ফ্লাইট চালু করার আহ্বান
সিটিনিউজ ডেস্ক : শাহ আমানত হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও হাজী সমাবেশে আজ শনিবার (১৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়।
কাফেলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালা ও হাজী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রূপালী ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক আবু সুফিয়ান।
হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও হাজী সমাবেশে দুই সহস্রাধিক মহিলা ও পুরুষ হজ্বযাত্রী অংশগ্রহণ করেন।
হজ্বকালীন করণীয় নিয়ে এতে মুয়াল্লিম ও উলামায়ে কেরাম বড় প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও হাজী সমাবেশে বক্তারা চট্টগ্রামের দশ হাজারের চেয়ে বেশি হজ্ব যাত্রীদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম-জেদ্দা সরাসরি হজ্ব ফ্লাইট চালু করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
হাজী সাহেবানদেরকে আল্লাহর মেহমান উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ধৈর্য বা কঠিন সবরের মাধ্যমে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ডাকে এবং আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়াই হচ্ছে পবিত্র হজ্ব। আল্লাহর সঙ্গে বান্দাহর সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয় হজ্বের মাধ্যমে। তাই হাজীদের সেবা ও সন্তুষ্টির ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
হজ্ব ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করে হাজীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং সকল নীতিমালাকে সহজ করার দাবি জানান বক্তারা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বায়তুশ শরফের পীর আল্লামা শাহ কুতুব উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. শেখ শফিউল আজম, সালমা গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শামসুল আলম, চবি অধ্যাপক ড. এ এস এম বোরহান উদ্দিন।
এ.ডি.এম আরুছুর রহমান ও মুহাম্মদ আবদুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে হজ্বকালীন করণীয় নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানে ছিলেন কাফেলার পরিচালক আলহাজ্ব মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, আলহাজ্ব এ টি এম শাহজালাল ও আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন জহুর, মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী, মাওলানা সেকান্দর হোসাইন আলকাদেরী, মাওলানা হাফেজ শিব্বির আহমদ ওসমানী, মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আলী শাহ নেছারী, মাওলানা ইকবাল হোছাইন আলকাদেরী, মাওলানা লিয়াকত আলী নোমানী, আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবদুচ ছবুর, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা আবদুচ ছোবহান ভূইয়া, মাওলানা ইউনুছ তৈয়বী, মাওলানা সালাউদ্দিন মুহাম্মদ বেলাল, মাওলানা মুখতার আহমদ রজভী, শায়ের মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা নূর মুহাম্মদ আলকাদেরী, ডাঃ আবদুল করিম, মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুছ, মাওলানা নূর হোসাইন, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।
কাফেলার মুয়াল্লিম ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে অনুষ্ঠানে ছিলেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান আলকাদেরী, মাওলানা মফজল আহমদ, আলহাজ্ব ইমাম হোসেন, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মাওলানা কাজী খায়রুল আনোয়ার, মাওলানা তারেক আবেদীন, মুহাম্মদ আবদুল আলিম, আলহাজ্ব আরশাদ আহমদ। কর্মশালায় প্রতীকী হাজী সেজে কাবা শরিফের নকশা প্রদর্শন করে হজ্বের চিত্র তুলে ধরেন আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবদুস সবুর।
প্রধান অতিথি সাংবাদিক আবু সুফিয়ান বলেন, হজ্বের সময়ে হাজীদের পরিপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কথা অনুযায়ী হাজীদেরকে প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারলে হাজীগণ যেমন সন্তুষ্ট হবে, তেমনি আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হতে পারে। শাহ আমানত হজ্ব কাফেলা হাজীদেরকে বিশ্বস্তভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এ কাফেলার নানামুখী সেবার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাজীদের নিয়ে ব্যবসায়িক মনোভাব ত্যাগে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশ বিমান সারা বছর লোকসান দেয়। অথচ হজ্ব মৌসুম এলে হাজীদের জিম্মি করে বিমান কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখে। হাজীদের নিয়ে বিমানের এই ব্যবসা অনৈতিক।
বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে হাজী পরিবহনের সুযোগ নে দেওয়ার মধ্যেই মূলত দুর্নীতি নিহত। ওপেন স্কাই তথা আকাশ খুলে দিয়ে সকল এয়ারলাইন্সকে হাজী পরিবহনের সুযোগ দিয়ে হজ্ব ব্যয় কমিয়ে আনতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুশ শরফের পীর আল্লামা শাহ কুতুব উদ্দিন (ম জি আ)। পরে তবারুক পরিবেশিত হয়।
