সরকার ভয় পায় বলে কর্মসূচি পালন করতে দেয়না: ফখরুল

0

সিটিনিউজ ডেস্ক:: বিএনপি নির্বাচনে আসলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে মানববন্ধন করতে দেওয়া হয় না, কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায়। তারা জানে বিএনপি যদি রাজপথে আসে এবং নির্বাচনে আসে তাহলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাহস ও শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুন, ফ্যাসিস্ট ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে। জনগণের শর্তে নির্বাচন হতে হবে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।’

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির নোংরা রাজনীতি করছে’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘নোংরা রাজনীতি বিএনপি করছে না। বিএনপি উদারপন্থী একটি রাজনৈতিক দল। এ দলে সাম্প্রদায়িকতার লেশমাত্র নেই। বরং আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন, সংবাদপত্রে স্বাধীনতা হরণ, জরুরি আইন জারি করে আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি মানবতার পক্ষে কথা বলছে। লজ্জা হয় আজকে যখন আমাদের সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে টনক নড়ছে না। তখন আমেরিকা থেকে বিবৃতি দেয়, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তুরস্ক থেকে ফার্স্ট লেডি বাংলাদেশে চলে আসেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে শৃঙ্খলিত একটি দল। তাই তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’

এসময় তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। শেখ হাসিনা নানা অজুহাতে বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায়।’

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মত হবে না, হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকার ও সহায়ক সরকারের অধীনে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিক্যৎসা শেষে দেশে ফিরে সময় মত সহায়ক সরকারের রূপরেখে দিবেন। সহায়ক সরকারে দাবি আদায় করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আগামী দিনে দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করতে না পারলে আমাদের (বিএনপি) অবস্থা রোহিঙ্গাদের চেয়ে করুন পরিণতি হবে। কেননা জিয়াউর রহমান দেশে যদি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ না নিয়ে আসতেন তাহলে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মতো আজ বাংলাদেশেও জাতিগত কিলিং হতে পারতো।’

নিজে নিজেকে সুস্থ মনে করেন কী না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রতি প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জনগণ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামী দিনে জনগণ তাদের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনবে মন্তব্য করে দলের আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে ভোটাধিকার দিতে ভয় পায়। তাদের আশঙ্কা দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ বিএনপিকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করবে।’

আরো বক্তব্য দেন- ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ।

আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.