মিয়ানমারে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মিয়ানমারে মুসলিম অধ্যুষিত আরাকানে রোহিঙ্গা গণহত্যার গণশুনানি ও প্রতীকী বিচার হল চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর অবদি চলা এ বিচারে শেষতক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে মিয়ানমার সরকার। রায়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় ইতিহাসের এ জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল স্টাডিজ (এসসিএলএস) এর আয়োজনে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতীকী বিচার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা অংশ গ্রহণ করেন। একইভাবে তাঁরা এ বিচারকার্য প্রত্যক্ষ ও করেন। সকাল সাড়ে ১০ থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিচারকাজ চলে। পরে রায় ঘোষণা করেন প্রতীকী আদালতের চেয়ারম্যান (প্রধান বিচারক) ব্যারিস্টার এম আমীরুল ইসলাম। এই আদালতের বিচারকার্য সম্পাদিত হয় আন্তর্জাতিক আদালতের নিয়ম কানুন অনুসরণ করে। পক্ষে–বিপক্ষের এটর্নিরা তাদের মামলা এবং এ সংক্রান্তে নিজেদের বক্তব্য আদালতের বিচারকের সামনে তুলে ধরেন। সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করেন উপস্থিত সাক্ষীরা। শেষে বিচারকের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয় মিয়ানমার সরকার। রায় দেয়ার সময় উক্ত প্রতীকী ট্রাইব্যুনাল এর চেয়ারম্যান বলেন, মামলার সবগুলো উপাদান বিচার বিবেচনায় এটি প্রতীয়মান হয় যে মিয়ানমারে গণহত্যা হয়েছে এবং এর জন্য দায়ী মিয়ানমার সরকার।

এই প্রতীকী ট্রাইব্যুনালে অংশগ্রহণ করেন দেশের ১৮ বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীবৃন্দ। যারা বিশ্বাস করে ছাত্রসমাজ তথা বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য এই আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর এ ধরনের বিচারের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে বলে বিশ্বাস আয়োজকদের।

এই আদালতের প্রধান বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকা দেশবরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীরুল ইসলামের সাথে আরো ছিলেন একজন গবেষক ও শিক্ষক এস এম মাসুম বিল্লাহ, লইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশের সম্পাদক ও আইনজীবী বদরুল হাসান কচি।

ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রত্য করেন চটগ্রাম জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট রতন কুমার রয়, কমোডর (অব.) এস এম মনির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশের আইন অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা।

এদিকে আদালতিক প্রক্রিয়া শেষে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে এই সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তব্য রাখেন চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রোহিঙ্গা গবেষক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনসহ আরো অনেকে। আলোচনায় বিভিন্ন বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, সংবাদকর্মী, মানবাধিকার কর্মী বক্তব্য রাখেন। মুক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও এসসিএলএস এর মডারেটর নির্মল কুমার সাহা। এতে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস থেকে বর্তমান অবস্থা সব বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

এই প্রতীকী আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারে ভূমিকা রাখবে এবং বিশ্ববাসী তাদেরকে ন্যায় বিচার দিতে সোচ্চার হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.