কামরুল ইসলাম দুলু:: সীতাকুণ্ড উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সবজি চাষের ধুম পড়েছে। শীতকালীন শাকসবজি আগাম বাজারে তুলতে পারলেই অধিক টাকা পাওয়া যাবে—এই ধারণা থেকে কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এখানে ব্যাপকভাবে মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ঢ্যাড়স, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক চাষ হয়।
উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা শীতের সবজির চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সবজির চারা ক্ষেতে লাগাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ক্ষেত আগাছা মুক্ত করতে নিড়ানি দিচ্ছেন। সীতাকুণ্ডের কৃষকদের মাঝে নানান দুশ্চিন্তা আর হতাশার মাঝেও বর্তমানে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। চলতি মৌসুমে পর পর কয়েকবার জলাবদ্ধতায় কৃষকদের সবজি চাষে ধস নামে।
জলাবদ্ধতার কারনে কয়েকবার নষ্ট হয়ে যায় কৃষকদের একমাত্র আয়ের উৎস বিভিন্ন সবজির চাষ। তাই এবারের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মেজাজও কিছুটাও ফুরফুরে। তবে একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের বাম্পার ফলনেও খুশি হতে পারছেন না তারা। কারন গত কয়েকবার জলাদ্ধতায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয় কৃষকরা।
এদিকে অনেকে এমন পরিস্থিতে জলাবদ্ধতাপ্রবন এলাকাগুলোতে খাল খননসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন দাবীর কথা জানিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।সীতাকুন্ডের বেশ কিছু এলাকাঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন সবজিরবাম্পার ফলন।
পৌরসভার শিবপুর, ১ নং সৈয়দপুর ইউপি ও ৪ নং মুরাদপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে সবজির বাম্পার ফলনের দৃশ্য।পৌরসভাধীন শিবপুর ৯ নং ওয়ার্ডে লাউ এর চাষ করা মোঃ সিরাজ জানান, আমি ৪০ শতকে লাউ এর চাষ করেছি। বর্তমানে যে অবস্থাতাতে মনে হচ্ছে অনেকটা লাভবান হব। যদি কোন কারনে জলাবদ্ধতার কবলে না পড়ে তাহলে ভাল একটা কিছুর আশা করছি। তবে বাজার দর যদি ঠিকটাক মত থাকে তাহলে অবশ্যই এবার লাভবান হতে পারি বলে আশা করছি।অন্যদিকে একই এলাকার শিম চাষ করা আরেক কৃষক আলহাজ্ব জামাল উল্ল্যাহ জানান, আমার ১০ শতকের মত শিম চাষ আছে, ইনশাআল্লাহ এবারের অবস্থা খুবই ভাল।
এলাকার সবার মোটামোটি সব শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে গত কয়েকবার জলাবদ্ধতার কারনে আমাদের গ্রামের অনেকের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকের লক্ষ লক্ষ টাকা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারনে মাটির সাথে মিশে গেছে। তাই সবাই একটা আতঙ্কের মধ্যে বার বার লোকসান দিয়ে আবারও চেষ্টা করছে এবার কিছুটা লাভবান হওয়া যায় কিনা। তবে চলতি মৌসুমে লাভবান হলেও সেটা লাভ ধরা যাবে না কারন গত কয়েকবার বেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে এই এলাকার কৃষকদের।এদিকে শিম চাষ করা তারেক নামে আরো একজন জানান, ৪০ শতক জমিতে আমি শিম চাষ করেছিলাম। তবে জলাবদ্ধতার কারনে আমার পুরো জমির চাষটা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবারও আমি একই জমিতে শিম চাষ করি।
এ বিভাগের আরও খবর
