চন্দনাইশে লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার

0

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ :: উপজেলার প্রতিটি বাজারে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই শত শত দোকানে অবাধি বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। প্রশাসনের সম্মুখে অবাধে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হলেও অজানা কারণে নিরব ভূমিকায় রয়েছে তারা।

গত ১৮ জানুয়ারি জোয়ারা রাস্তার মাথা এলাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে ৪টি দোকান ও ১টি বসতঘর ভস্মীভূত হয়। তাছাড়া ২ জন অগ্নিদদ্ধ হলে ১ জন মারা যায়। একইভাবে গত বছর গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে পৌরসভার চৌকিদার বাড়ীর ৮ পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

আইনের তোয়াক্কা না করেই শুধু মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চা দোকানি থেকে শুরু করে মুদির দোকানি, ক্রোকারিজ, কসমেটিকস দোকানিরা পর্যন্ত খোলা মেলা ভাবে অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও ব্যবহার  করছে। মার্কেট গুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষন রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকানে অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার নেই।

সরকারী নিয়মানুসারে এলপি গ্যাস সিল্ডিার ব্যবহার, বিপণন, বাজারজাত করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্টান বা ব্যবসায়ীকে অবশ্যই বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষন রাখতে হবে। কিন্তু উপজেলা বিভিন্ন হাটবাজারে ভিন্ন চিত্র। বাজারে কোন ব্যবসীর এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স নেই।

উপজেলার কোনো ব্যবসায়ীই আইনের তোয়াক্কা করছেন না। বরং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম ঘরে অসংখ্যা পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ রেখে ব্যবসা করছেন। শুধু তাই নয়, হাট-বাজারে খোলামেলা শত শত লোকের মাঝে বিপজ্জনক ঝুঁকিপূর্ণ এ গ্যাস সিলিন্ডার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে সাধারণ লোকজনের কাছে দোকানিরা দেদারছে বিক্রি করছেন। এমনকি চায়ের দোকান, হোটেলসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানেও এ গ্যাসের ব্যবহার করা হচ্ছে অহরহ।

এদিকে লোকালয়ে এ সকল গ্যাস ব্যবহার করায় লোকজন চরম ঝুঁকিতেও রয়েছে। এলপি গ্যাস বিক্রির নীতিমালা ও নিয়ম-কানুন এলাকার কোনো দোকন মালিকই জানেন না। উপজেলা পর্যায়ের কোনো ব্যবসায়ী বা দোকানির এলপি গ্যাস বাজারজাত বা বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স লাগে। অজ্ঞতা ও ডিলারদের প্রলোভন পড়ে অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে এ গ্যাস সিলিন্ডার প্রতিষ্ঠানে মজুদ রেখে দেদারছে বিক্রি করছেন।

আগামী কয়েকবছরে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে। খুচরা দোকানসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টির বেশি সিলিন্ডার থাকলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। কেউ কেউ জেনেশুনে এটি মানছেন না, আবার অনেকেই এ সর্ম্পকে জানেন না।

এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪’-এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে বলা হয়েছে, ১০(দশ)টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদকরণে লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। এর বেশি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। একই বিধির ৭১ ধারায় বলা হয়েছে আগুন নেভানোর জন্য স্থাপনা বা মজুদাগারে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। কিন্তু চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা দোকানে ঘুরে দেখা যায় বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। কিন্তু প্রয়োজনীয় লাইসেন্স কারো নেই।

এলপি গ্যাস দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষণ নকশা মেনে গুদামঘর তৈরি করতে হয়। তা না হলে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এ আইন অমান্য করলে যেকোন ব্যবসায়ীকে ২ (দুই) বছর অনধিক ৫ (পাঁচ) বছরের জেল এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা দন্ডিত হবেন।

এ ব্যাপারে বিষ্ফোরক অধিদপ্তর সূত্র জানান, দশটির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ গ্যাসাধার রাখলে যে কোন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যমূলকভাবে বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু দেশের অনেক স্থানেই থামানো হচ্ছে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, লাইসেন্স গ্রহণ না করা, জন নিরাপত্তা, বাজার নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই), উদ্ধর্তন যেকোন কর্মকর্তা বাজর পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। উৎপাদনকারীরা ডিলারদের কাছে বিষ্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ এর বিষয়টি যাচাই করে থাকে। সাধারণত এ ব্যাপারে তদারকি হয় না।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন লাইসেন্সের ব্যাপারটি কে কতিয়ে দেখে না। তাই অর্থ খরচ করে লাইসেন্স গ্রহণ করতে তারা আগ্রহ বোধ করেন না। পাশাপাশি ডিলারেরা ও এ ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহিত করে না। যে টাকা লাইসেন্স করতে খরচ হয় সে টাকা দিয়ে সিলিন্ডার ক্রয় করতে উৎসাহিত করে থাকেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.