পুলিশের উপর হামলাকারীরা অনুপ্রবেশকারী, বিএনপির কেউ নয়ঃ ফখরুল
সিটি নিউজ ডেস্কঃ হাইকোর্টের সামনে মঙ্গলবার যে ঘটনা ঘটেছে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। আমরা নিজেরাই এই ছেলেদেরকে চিনতে পারছি না। আমরা আশঙ্কা করছি অনুপ্রবেশকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
আজ বুধবার (৩১ জানুয়ারী)সকালে জরুরী এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা যে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছি। সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই এটাকে বিনষ্ট করার জন্য কাজ করছে।
সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভীতিকর বিষয় গত রাতে গয়েশ্বর রায়কে গ্রেফতারের ঘটনা অনেক রাত পর্যন্ত পুলিশ স্বীকার করেনি। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ মানুষ। তার ওষুধগুলো পর্যন্ত সেখানে নিতে দেয়নি। সকাল পর্যন্ত তাকে ওষুধ নিতে দেয়া হয়নি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী তাকে দেখতে গিয়েছেন, তার বউমা দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুর রায় গয়েশ্বরকে দেখতে গিয়েছিলেন কিন্তু তাদেরকে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি। গয়েশ্বর রায়কে নিয়মিত মেডিসিন নিতে হয়। তাও নিতে দেয়নি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই গ্রেফতারটা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। আমাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। অথচ গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে। দেশের যে স্থিতিশীল পরিবেশ নিজেরাই তা নষ্ট করছে।
তিনি বলেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেবলমাত্র স্থায়ী কমিটির সদস্যই নয়, তিনি দীর্ঘ দিন যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার অবদান ছিল। তাকে এভাবে হঠাৎ তুলে নিয়ে যাওয়া অশনি সংকেত। আশঙ্কা করছি সরকার তার একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য অর্থাৎ বিএনপিকে বাদ দিয়ে বিরোধীদলগুলোকে বাদ দিয়ে একদলীয় নির্বাচন করার নীলনকশার দিকে এগুচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ যখন শান্তিপূর্ণভাবে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চেয়েছিল, দেখতে চেয়েছিল, অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিল। সেই সময় সরকারের তরফ থেকেই এই উস্কানিমূলক কাজগুলো শুরু হয়েছে। যাতে বিরোধীদলগুলো নির্বাচনে আসতে না পারে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলার রায়ের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আবার একটি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। এই অবস্থার সৃষ্টি করে তারা আবারও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাইছে। তারই নীল নকশা হিসেবে তারা আজকে এই পরিস্থিতিগুলো সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই। অবিলম্বে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমাদের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খোকনসহ সকলকে মুক্তি দিতে হবে। সকল রাজনৈতিক নেতা এখন পর্যন্ত যারা আছেন তাদের সকলকেই মুক্তি দিতে হবে। এই মুক্তি না দিলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুস্থ স্বাভাবিক হবে না।
মঙ্গলবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ শত শত নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে উল্লেখ করে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল।
হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলা ও ছাত্রদলের দুই কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহবাগ থানায় পৃথক দু’টি মামলা করেছে পুলিশ। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রহিদুল ইসলাম ও এসআই চম্পক বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৫৭ ও ৫৮।
দায়ের করা উভয় মামলার এজাহারে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আটশ বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালায়।
