নিজস্ব প্রতিবেদক:: অঘোষিত ‘গো স্লো’র কবলে পড়ে চট্টগ্রামের বেসরকারি ঘাটগুলোতে পণ্য খালাসে ধস নেমেছে। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি, কাজ না করা, বসে বসে আড্ডা দেয়াসহ নানাভাবে ব্যাহত করছে পণ্য খালাস। এতে করে দেশের আমদানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত লাইটারেজ জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাজার হাজার টন আমদানি পণ্য বোঝাই মাদারভ্যাসেলগুলোর বহির্নোঙরে অবস্থান দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আমদানিকারকদের কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। বিষয়টি সুরাহার জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে জরুরি বৈঠক বসলেও পরে তা ভন্ডুল হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে বন্দর চ্যানেলের সরকারি বেসরকারি ১৭টি ঘাটে লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়। ঘাট শ্রমিকেরা এসব পণ্য খালাস করেন। ১৭টি ঘাটে প্রায় এক হাজারের মতো ঘাট শ্রমিক কর্মরত আছেন। আগে এসব ঘাটে জাহাজ থেকে শ্রমিকেরা মাথায় বস্তা নিয়ে পণ্য খালাস করলেও এখন পরিবর্তন এসেছে। এখন জাহাজ থেকে ক্রেনের সাহায্যে পণ্য ভর্তি বস্তা ঘাটের পল্টুনে ফেলা হয়। ওখান থেকে শ্রমিকেরা মাথায় তুলে ট্রাকে বোঝাই করে। আগের চেয়ে কাজের পরিমাণ এবং পরিশ্রম কমলেও আমদানিকারকদের খরচ বেড়েছে। ঘাট পরিচালনাকারীরা আগে সব মিলিয়ে প্রতি টন পণ্য খালাসে ২২০ টাকা নিলেও এখন তা ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এই টাকায় শ্রমিকদের বস্তা প্রতি ১১ টাকার মজুরিও রয়েছে। ঘাট পরিচালনাকারীরা আমদানিকারকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিলেও শ্রমিকদের মজুরি দুয়েক টাকা না বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, বর্তমানে প্রতি টন বস্তাভর্তি পণ্য হ্যান্ডলিং করতে শ্রমিকেরা মজুরি পায় ১১৬.৬৭ টাকা। গত কিছুদিন ধরে তারা মজুরির পরিমাণ ২০৫.৫৬ টাকায় উন্নীত করার জন্য আন্দোলন করছে। আর এই দাবি আদায়ের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে তারা গো স্লো শুরু করে। তারা কাজে যোগ না দিয়ে নিয়মিত বিরতি দিয়ে কর্মবিরতি করছে। তারা ঘাটে বসে আড্ডা মারে কিন্তু কাজে যোগ দেয় না। আবার একটি বস্তা নিয়ে এমন রয়ে সয়ে ট্রাকে তুলতে যায় যে যেন বহু দূর থেকে হেঁটে আসছে। পরিস্থিতি এত ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে স্বাভাবিক সময়ে যতটুকু কাজ হয় বর্তমানে তার এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হচ্ছে বহির্নোঙরে। লাইটারেজ জাহাজগুলোর অবস্থানকাল বেড়ে যাওয়ার জের ধরে বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসও ব্যাহত হচ্ছে। এক একটি জাহাজকে পণ্য নিয়ে অলস ভাসতে হচ্ছে সাগরে। এতে ক্ষতির কবলে পড়ছেন আমদানিকারকেরা।
