নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।’
বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুরে নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল মেশিনারি এক্সপোর (বিগটেক্স) উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।
চসিক, সিডিএ, ওয়াসা, কেজিডিসিএলসহ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মযজ্ঞের কারণে নগরবাসীকে সাময়িক কষ্টের জন্য ধৈর্য ধরারও অনুরোধ জানিয়ে আ জ ম নাছির বলেন, ‘কিছু দিন আগেও গরিব দেশ ছিলাম। অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চেষ্টা হয়েছিল। দেশের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবসায়ীদের মেধা, প্রজ্ঞা, ঝুঁকির ভূমিকা অপরিসীম। সরকারের ইতিবাচক সহায়তায় এটি সম্ভব হয়েছে।’
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর দেশের উন্নতি নির্ভরশীল উল্লেখ করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর। বাণিজ্যিক রাজধানী। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ২০১৯ সালে পতেঙ্গা টার্মিনাল উদ্বোধন হবে। বে টার্মিনাল নির্মাণে সরকার আন্তরিক, বন্দর কর্তৃপক্ষকে আমরা তাগিদ দিচ্ছি। সরকার ব্যবসা বান্ধব। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
মেয়র ফিতা কেটে তিন দিনের বিগটেক্স প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, পোশাকশিল্পের উত্থান চট্টগ্রাম থেকে। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর দেশের ২ হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সাড়ে তিন হাজার কারখানা সচল আছে। চট্টগ্রামে সেভাবে এ শিল্প প্রসার লাভ করেনি। কারণ এনবিআরসহ সব কিছু ঢাকায়, সিদ্ধান্ত সব ঢাকা থেকে হয়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন না করলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হতো না। এ সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। লেস প্রাইস গুড কোয়ালিটি মূলমন্ত্র হলে অামরা বিশ্বে বাজার সম্প্রসারণ করতে পারব।
বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক ম নাছির উদ্দিন।
বিশ্বের পরিবেশবান্ধব প্রধান ১০টি কারখানার মধ্যে বিকেএমইএর চারটি। তারপরও বাজার সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের।
তিনি বলেন, মিরসরাই ইকোনমিক জোনে বিজিএমইএ-বিকেএমইএকে জায়গা দেওয়া হবে। আমাদের উদ্যোক্তাদের এখানে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।
ওয়েল গ্রুপের সিইও সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, এশিয়ার অন্যতম বিজনেস হাব। বিগটেক্স চট্টগ্রামকে বিশ্বে ফোকাস করবে। আমরা আমদানি নির্ভর দেশ নই, প্রচুর রপ্তানিও করছে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার নাম। আমি আহ্বান জানাই, আমাদের দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় এখানে বিনিয়োগ করার জন্য।
স্বাগত বক্তব্য দেন রেডকার্পেট-৩৬৫ লিমিটেডের সিইও আহমেদ ইমতিয়াজ। তিনি জানান, স্বাগতিক বাংলাদেশসহ চীন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, কোরিয়া, শ্রীলংকা, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টি স্টল রয়েছে। প্রদর্শনী ১২ মে পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
