প্রেস রিলিজ : জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সন্দীপনার ২৫ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে বছর ব্যাপী কর্মসূচীর অনুষ্ঠান ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ৩১আগষ্ট স্থানীয় মুসলিম হল সংলগ্ন স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়। সকলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সন্দীপনার উপদেষ্টা মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবী ড. মাহমুদ হাসান এবং সংগঠন পতাকা উত্তোলন করেন- সন্দীপনার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভাষ্কর ডি.কে.দাশ (মামুন)। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনের শাখা সমূহ থেকে আগত ৪০ জন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নেতা কর্মীদের নিয়ে কর্মী সম্মেলন। কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন নাট্যজন শেখ শওকত ইকবাল।
বিকেল ৪টায় মূল আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন। মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক চ.বি. অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার। সম্মানিত বিশেষ অতিথি বৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, বিশিষ্ট সংগঠক সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, ডাঃ প্রভাষ চক্রবর্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ সালাম, শিল্পী এম.এ হাশেম, মানবাধিকার সংগঠক ও লেখক মুহাম্মদ হাসান। ২৫ বছর পূর্তি উৎসবের বছর ব্যাপী কর্মসূচীর রুপরেখা তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সন্দীপনার সিনিয়র সহ সভাপতি শিক্ষাবিদ বাবুল কান্তি দাশ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সংগঠক মোশাররফ হোসেন খান রুনু, কবিয়াল অশ্বিনী কুমার দাশ, সাংবাদিক হারুন অর রশিদ, কবিয়াল বাবুল দাশ, প্রকৌশলী অনিত কুমার নাথ, নাট্যকর্মী এমরান হোসেন মিঠু, সংগঠক সজল দাশ, মোঃ রাশেদ, নাট্যকর্মী জাহানারা পারুল প্রমুখ।
সন্দীপনার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যদু গোপাল বৈষ্ণবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিথির ভাষণে ড. সেন বলেন, “বাঙালী সংস্কৃতির বিকাশ, সন্দীপনার অঙ্গীকারু এই শ্লোগানকে দীর্ঘ ২৫ বছর লালন করে সন্দীপনা যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টির মধ্যদিয়ে যুব সম্প্রাদায়কে সামাজিক পশ্চাৎমুখীতার বিপরীতে মুক্তবুদ্ধি, মুক্ত চিন্তার পথ অবাড়িত করেছে। বিবিধ স্খলনের পথ পরিহার করে শত শত সংস্কৃতিকর্মীসংগঠক আজ দেশ জুড়ে বাঙালীর চেতনার ধ্বজা উড্ডীন করে ধরেছে। স্বাধীনতা উত্তরকালে এ দেশে যে সকল মৌলবাদের উত্থান আমাদের জাতি সত্ত্বার মর্ম মূলে আঘাত করার চেষ্টা করেছে, তা প্রতিহত করতে হলে একমাত্র বাঙালীর হাজার বছরের শিল্প সংস্কৃতি লালনের বিকল্প নাই। তিনি সংস্কৃতি চর্চার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অপরিহার্যতা রয়েছে বলে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শুর“তে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন, সঙ্গীতজ্ঞ অমলেন্দু রাহা। অনুষ্ঠানে সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য শিল্পী স্বপন কুমার দাশকে সন্দীপনার পক্ষ থেকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরী ও সুমী দেবী সঞ্চালনায় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন- আবৃত্তি শিল্পী মিনহাজুন্নেছা, শিক্ষিকা তাহেরা খাতুন, প্রকৌশলী সঞ্জিত কুমার দে, এমরান হোসেন মিঠু, উজ্জ্বল সিংহ, মোঃ রাশেদ, শাহীদা খানম, কবি আসিফ ইকবাল, মোঃ দিদার হোসেন, বাসুদেব রুদ্র, মোঃ আজগর আলী, শিল্পী দত্ত, তন্বী দাশ, রুমানা ইসলাম রুনা, তরুন বিশ্বাস, বৃষ্টি চক্রবর্তী, ফৌজিয়া সুলতানা রেখা, রঞ্জিত নাথ প্রমুখ। সবশেষে একক সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন- শিল্পী এম.এ হাশেম, শিল্পী স্বপন কুমার দাশ, শিল্পী কাজল দত্ত, শিল্পী মুসলিম আলী জনি, শিল্পী সঞ্জয় দে, শিল্পী উজ্জ্বল সিংহ।
