রাইফা হত্যাকান্ডের বিচার চাই,সরকারের নীতিমালা চাই- আমিনুল হক বাবু
গোলাম সরওয়ার,সিটি নিউজ : যেখানেই মানবতা বিপন্ন সেখানেই বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, মেধা, মনন, আন্তরিকতায় মানুষকে যিনি আপন করে নেন, তিনি আমিনুল হক বাবু। বাংলাদেশ মানবধিকার কমিশন বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাবু দক্ষতা ও সুনামের সাথে। সাংবাদিক বান্ধব এই ব্যক্তিত্ব চট্টগ্রামে একজন বিশিষ্ট সংগঠক। নিউজপোর্টাল সিটি নিউজ বিডিডট কমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আমিনুল হক বাবু বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি কে দেশের সামগ্রিক উন্নতি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ভাবার কোন সুযোগ নেই।
অথচ সেই স্বাস্থ্যসেবাকে নিয়ে বিস্তর অভিযোগের তীর উঠেছে। চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যুর ফলে বিষয়টি আবার আমাদের সামনে এসেছে। অগুনিত ভুল চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যুর কথা বিভিন্ন সময় মিডিয়ার কল্যানে আমরা জেনেছি।ডাক্তার দের বিরুদ্ধে আর একটি গুরুতর অভিযোগ ধর্মঘট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার। ডাক্তারী পেশা একটি মহৎ মানবিক পেশা। অসুস্হ মানুষের চরম দুঃসময়ে পাশে থাকে ডাক্তার। ডাক্তার এবং রোগী উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রনয়ন এখন সময়ের দাবী। ডাক্তারের কি অধিকার, রোগীর কি অধিকার তা স্পষ্ট করা উচিত। এছাড়া ল্যাব ও প্যাথলজিক সেন্টারগুলো নজরদারীর আওতায় আনা উচিত।
তিনি আরো বলেন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ডাক্তারদের যথাযথ ফির হার সরকারকে নির্ধারন করে দিতে হবে এবং একই সাথে ডাক্তারদের মানসিক চাপ কমাতে দৈনন্দিন সর্বোচ্চ রোগী দেখার সংখ্যা ও নির্ধারিত থাকা উচিত, প্রত্যন্ত অন্চলে কর্মরত ডাক্তারদের আবাসন সহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।সব চাইতে বড় কথা হলো চিকিৎসায় নিগৃহিতদদের এ সব অভিযোগ জানাতে দেশব্যাপী একটি হটলাইন নাম্বার চালু করতে হবে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বৃহত্তর চট্টগ্রাম অন্চলের পক্ষ থেকে আনরা এ সব বিষয় গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রস্তাবনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। রাইফার মৃত্যু অত্যন্ত মর্মবেদনার ও হৃদয় বিদারক। যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখিন করতে হবে। আপনি জানেন আমাদের দেশে অধিকাংশ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ আছে তারা রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে কথা শোনেন না। আবার বিপরীত চিত্র ও আছে অনেক মানবিক ডাক্তার এর কথা ও কিন্ত আমরা জানি, যারা দেশের জন্য উদাহরণ। আমরা আশাবাদী রাইফা আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা।
বিশিষ্ট সংগঠক আমিনুল হক বাবু বলেন, আমাদের বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বৃহত্তর চট্টগ্রাম আন্চলিক শাখা চট্টগ্রামে অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য মানবিক কাজের সফল দৃষ্টান্ত রেখেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৮ বছর বয়সী মাধবী ৬ বছর ধরে শিকলবন্দী ছিল। মাধবীকে উদ্ধার করে তাকে শিকলমুক্ত করে আমরা পুনর্বাসন করেছি। সে এখন মুক্ত। ২৯ বছরের বিলকিস কে দুই পায়ে শিকল পরিয়ে আবার দুই পায়ের মাঝখানে তালা মেরে রাখা হয়েছিল। আমরা তাকে উদ্বার করে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুস্হ ভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা সেই বিলকিস শেকলমুক্ত তো বটেই এখন সে চাকরী ও করছেন।
গৃহবন্ধী ৬ বছরের মেয়ে রীমা ঝুঁকিপুর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত ছিলো, আমরা তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারকে হস্তান্তর করেছি। বাবু বলেন, টেকনাফে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসায় আমরা ক্যাম্প করে চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। এমনকি চমেক হাসপাতালে আমরাই প্রথম গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাদেরকে চিকিৎসা দিয়েছি। আমিনুল হক বাবু বলেন,কোন স্কুলে বাচ্চাদের উপর নির্যাতনের কোন খবর পেলে আমরা ছুটে গিয়েছি,বিভিন্ন সময়ে আমরা অসহায় /ধর্ষিতা অনেক নারী কে আইনি সহযোগী তা দিয়েছি,মাত্র ৪১ জন সদস্য নিয়ে আমাদের নিজেদের অর্থেই মানবতার কল্যাণে আমরা কাজ করে চলেছি,তবে কোন বিত্তবান যদি মানবতার কল্যাণমূলক কাজে আমাদের পাশে এগিয়ে আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাবো।
তিনি বলেন, আপনি নিশ্চয় জানেন, চট্টগ্রামে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে জীবিত শিশু রেখে মৃত শিশু দেওয়ার ঘটনায় আমাদের অনুসন্ধানে জীবিত শিশু উদ্ধার করে মায়ের কোলে দিতে পেরেছি। এটা অনেক আনন্দের। মানুষের সেবা করাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। মানবতার কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকবৃন্দের কাছে আমরা সব সময় কৃতজ্ঞ। কলম যোদ্বারা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য- সমাজের অসহায়, দরিদ্র, দুর্বল, দুর্গত মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। জয় হোক মানবতার।
