জামাল জাহেদ, মহেশখালি : মহেশখালীতে চিংড়ি ঘের দখল বেদখলের জের ধরে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক অপর বাহিনীর এক যুবককে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর গুম করা লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড় ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গত ১ আগস্ট হোয়ানকে আলোচিত হেতালিয়া চিংড়ি ঘেরের বিরোধের জের ধরে জনৈক ফেরদৌসের পক্ষের এক লোককে অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ আকতার হামিদ গ্রুপের লোকজন। ওই ফেরদৌসের আপন শ্যালক উপজেলার কালামার ছড়ার বাসিন্দা হাফেজ মৌলানা সেলিম(৩৮) ফেরদৌসের হিসাব রক্ষক হিসেবে কাজ করত বলে জানা গেছে।
ওই দিন চিংড়ি ঘের থেকে আকতার হামিদ গ্রুপের লোকজন তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে আহত করে। আহত অবস্থায় সেলিমকে ওই সন্ত্রাসীরা ঘেরের অন্য লোকজনের সামনেই অপহরণ করে নিয়ে যায়। বেশ কয়েকদিন নিখোঁজ থাকর পরেও কোন সন্ধান না মেলায় এই নিয়ে আকতার হামিদের ভাই মো. শাহজাহানকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় একটি নিখোঁজ মামলা হয়। নিখোঁজের পরিবারের লোকজন ও মহেশখালী থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান করেও সেলিমের কোন হদিস পাননি।
এই দিকে গতকাল ভোরে এক দল কাঁকড়া শিকারী কাকঁড়া আহণের সময় উপকূলীয় ম্যানগ্রুভ ফরেস্টের বাগানের ভেতর একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টা এলাকায় জানাজানি হলে গ্রামের বেশ কিছু লোক ও নিহত সেলিমের আত্মিয়-স্বজন গিয়ে এটি নিখোঁজ হওয়া সেলিমের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে। খবর পেয়ে গতকাল দুপুরের পরে মহেশখালী থানা ও কালারমার ছড়া পুলিশ ক্যাম্পের একদল পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী পানিরছড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান তিনি একজন কাকঁড়া শিকারী,গতকাল ভোরে অন্যান্য লোকজনের সাথে কাকঁড়া আহরণ করতে গিয়ে প্যারাবনের ভেতর একটি লাশ দেখতে পান। তিনি এসে বিষয়টি কেরুণতলী গ্রামের বাজারে উপস্থিত লোকজনকে জানান।মরদেহ উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন জানান- হোয়ানকের পশ্চিমে সাগর উপকূলীয় ওমখালী নামক চিংড়ি ঘেরের অদুরে প্যারাবন থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি লাশের ছুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করেছেন বলে তথ্য দিয়ে জানান মরদেহটির মুখম-ল অনেকটা বিকৃত হয়েগেছে। লাশের গলায় গামছার মত একটি বস্তু প্যাচানো ছিল। পরণে একটি জাঙ্গিয়া রয়েছে। তার শরিরে ২ টি গুলির চিহ্ন ও একটি কোপের আঘাত রয়েছে। তিনি জানান পিটের মেরুদন্ডের উপরে একটি ও ডান হাতের উপরে একটি গুলির আঘাত রিপোর্ট করেছেন। একইভাবে তার ডান পায়ের গোড়ালীর পেছনে একটি দায়ের কোপ রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
মহেশখালী থানার ওসি ( ইনভেস্টিগেশন) দিদারুল ফেরদৌস জানান,নিহতের পরিবার উদ্ধার হওয়া মরদেহটি সেলিমের বলে শণাক্ত করেছেন। এনিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।নিহতের ভগ্নিপতি ফেরদৌস জানান,জামায়াত ক্যাডার আকতার হামিদ ও হোয়ানকের চেয়ারম্যান এনাম বাহিনীর ক্যাডাররা তার শ্যালককে পরিকল্পিত ভাবে খুন করে লাশ গোপন করে রেখেছিল। তিনি এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।
