জুবায়ের সিদ্দিকীঃঃ চট্টগ্রােেমর মানুষ ভাল নেই। একদিকে জোয়ারের পানির তান্ডব, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ঘিরে রেখেছে নগরবাসীকে। রাস্তায় বড় বড় গর্ত। এক একটা যেন বড় বড় পুকুর। হাজার হাজার কোটি টাকার মেঘা প্রকল্পের ঘোষনা, খাল-খননসহ নানা কর্মকান্ডের ফিরিস্তি প্রত্রিকার পাতায় পড়তে পড়তে এখন বিরক্তিভাব জনগনের।
অন্যদিকে নাছির-ছালামের মৈত্রী সভার ছবি ও সংবাদও আমাদের আনন্দিত করে। কিন্তু এই দুর্ভাগা দেশে দুর্ভাগ্য আমাদের সহসা সমাধান হয়না। নগরবাসীর জীবন ও সম্পদ বার বার ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। রাস্তায় যানজট। দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছে না । সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের মানুষ এক স্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
জনপ্রতিনিধিরা বড় বড় আশ্বাস দেয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। সমস্ত নগরীটা মাঝে মধ্যে মনে হয় একটা ডাষ্টবিন। কে শুনবে কার কথা, কে রাখে কার কথা। সর্বত্র যেন আইন না মানার প্রতিযোগীতা। মহেষখালের মুখে সুইচ গেইট দিলেই জোয়ারের পানি বন্ধ হয়, কিন্তু সেটা না করে রাস্তা উচু করা শুরু হয়েছে। রাস্তাগুলোও পানিতে ডুবছে।
জনদুর্ভোগ, জনবিচ্ছিন্ন জনপ্রতিনিধিদের জবাব দিহিতা না থাকাও আমাদের পোড়া কপালে আরেক দুর্ভাগ্য। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর নগরীর কোন কোন এলাকায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার ক্ষমতাসীনদলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ডও কোথাও কোথাও ব্যাহত হয়েছে। আকামের কাজ বেশী হয়েছে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
চট্টগ্রামে অধিকাংশ এলাকায় এমপিলীগ ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নামে মতবিরোধ, মত পার্থক্য ও সংঘর্ষ হচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘবে জনপ্রতিনিধিরা কোন অবদান রাখেননি। এতে করে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য জমে ড্রেন অকার্যকর হয়ে যাওয়া।
নগরীর জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। জনস্বার্থের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোন সরকারই আমলে নেননি। এমপি, মন্ত্রী, মেয়র এই জোয়ারের পানি স্থায়ীভাবে বন্ধে আগে কোন প্রকল্প নেননি। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট বরাদ্ধ দিয়েছেন। কিন্তু কালক্ষেপন করছে সংস্থাগুলো।
চট্টগ্রাম বরাবরই একটি অপরিকল্পিত নগরী। মানুষ আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় গনতান্ত্রিক আচরণ দেখার জন্য। সামনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। এসব হিসাব নিকাশ ভোটারদের মধ্যে অবশ্যই থাকবে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
এখন নগরীর বেহালদশা নিয়ে আন্দোলন-সমাবেশ হচ্ছে সর্বত্র। এই যে দেশ, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের কোন জবাবদিহিতা নেই। এরা দিনকে রাত, রাতকে দিন করে। এরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়। জনগনের দুর্ভোগও দিন দিন বড় হয়। আইন যেন তাদের স্পর্শ করেনা।
