‘কৃষকদের গ্লানি-বিত্ত কিছুই দিতে হবেনা, শুধু নিপুণ সেবা দেন’

0

সিটিনিউজবিডি : কৃষকদের নিপুণ সেবা দেয়ার জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। একইসঙ্গে অল্প সময়ে বেশি ফসল এবং নিরাপদ ফলনে কৃষকদের উৎসাহী করার জন্য বলেছেন মন্ত্রী।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি অঞ্চলের কৃষি দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কৃষকদের গ্লানি, বিত্ত কিছুই দিতে হবেনা। তাদের শুধু নিপুণ সেবা আপনারা দেন। বাকিটা বাংলাদেশের কৃষক, বাংলাদেশের মানুষ করবে। তারাই এদেশকে এগিয়ে নেবে। ’

‘কৃষকরা অনেক কিছুই আমাদের থেকে আগে বুঝে। তাদের শুধু ধরিয়ে দিতে হয়। এই ধরিয়ে দেয়ার কাজটাই আপনারা করেন। ’ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য কি দরকার ? অল্প সময়ে বেশি ফলন, বেশি ফসল। কামলার খরচ যেন কমে যায়। এটা করতে গেলে আমাদের প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে। কৃষি প্রযুক্তিতে ইতোমধ্যে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি।

‘আমি বলছি, উৎপাদন প্রয়োজনে দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য মেট্রিকটন কম হোক, কিন্তু নিরাপদ ফলন যেন হয়। সময় যেন কম লাগে। সবটাই যদি পানির নিচে চলে যায় তাহলে ফসল ফলিয়ে লাভ কি ?’ বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখন তো কামলা পাওয়া যায়না। শিল্পায়নের জন্য জমি কমে যাচ্ছে। আমরা কামলারাও কলকারখানায় চলে যাচ্ছে। সবাইকে তো আর কৃষিতে ধরে রাখা সম্ভব না। সুতরাং কেউ যাবে কৃষিতে, কেউ যাবে কলকারখানায়। এ অবস্থাকে মেনে নিয়েই আমাদের ফলন বাড়াতে হবে কম সময়ের মধ্যে।

তিনি বলেন, অনেকে হয়ত বলবেন এটা অস্বাভাবিক। কিন্তু আজ যেটা অস্বাভাবিক, কাল সেটা স্বাভাবিক। মানুষ যখন চাঁদে গিয়েছিল তখন অনেকে বলেছিল এটা খোদার উপর খোদগারি। এখন যুদ্ধাপরাধীকেও নাকি চাঁদে দেখা যায়। চোরের হাতে বন্দুক গেলে গৃহস্থের সম্পদ লুট হয় আর গৃহস্থের হাতে সম্পদ গেলে সেই সেম্পদ রক্ষা পায়।

চট্টগ্রামে আতপ চালের ফলন বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইন্টান্যাশনাল মার্কেটে সিদ্ধ চালের বাজার নেই। আতপ চাল যেহেতু চট্টগ্রাম আর সিলেটে বেশি হয় এটার দিকে নজর দিতে হবে।

‘আর সবজির চাষটা বাড়াতে হবে। চট্টগ্রামে উঁচু জমি আছে। শাকসবজির চাষটা যদি বাড়াতে পারি সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। সবজি রপ্ত‍ানিতে আমরা এখন বিশ্বে চতুর্থ। উৎপাদন বাড়াতে পারলে আমরা তো প্রথমও হতে পারি। ’ বলেন মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.