সিটি নিউজঃ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নূরুল আলম নিজামী বলেছেন, গ্রামের জনগণকে শহরের জনগণের মত সবধরণের সুবিধা ও সেবা দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শহরে সেবা নিতে সময় ও খরচ দুই ব্যয় হয়। সরকারের উদ্দেশ্য সময় ও খরচ বাঁচিয়ে জনগণকে কিভাবে সর্বোত্তম সেবা দেওয়া যায় সে লক্ষে কাজ করা।
আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেন্ডার ও গ্রাম আদালত সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ শীর্ষক প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার আইন ও আদালতকে মর্যাদা দিয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় গ্রাম আদালতের বিকল্প নেই। সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য গ্রাম আদালত সক্রিয় করেছেন। গ্রামের একজন চেয়ারম্যানসহ ৫ সদস্যের জুড়ি বোর্ড গঠন করে গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ঘটনা জড়িত থাকলে জুড়ি বোর্ডে অবশ্যই মহিলা সদস্য থাকতে হবে। ২০ টাকার বিনিময়ে আবেদন করে ইউনিয়ন পরিষদে এই সেবা পাওয়া সম্ভব বলে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার।
কর্মশালায় ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর উজ্জ্বল কুমার দাস চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি সভাপতিত্ব করেন। শুভেচ্ছা বক্তৃতায় উপপরিচালক বলেন, চট্টগ্রামে ১৯১টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত চালু রয়েছে। স্থানীয় সরকারের আইন মোতাবেক ৭৫ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতির বেশি মামলা বা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা চেয়ারম্যানের নেই।
চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি যে বিচার করছেন সে বিচার যেন সঠিক হয়, পক্ষপাতিত্ব বিচার করবেন না। বিচার করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। আপনি আল্লাহর পরে বিচার করেছেন, যদি সঠিক বিচার না করেন অবশ্যই অভিষাপ লাগবে।
জেন্ডার সমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ২০১৫ সালে এসডিজি সফলভাবে অর্জন করেছি। এখন এমডিজি’র দিকে ধাবিত হচ্ছি। জেন্ডার সমতা না হলে এমডিজি অর্জন সফলকাম হবে না। নারীরা পুরুষের সাথে সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। নারীদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দক্ষতার সাথে নারীরা বিচার কাজ পরিচালনা করবে।
কর্মশালায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, শিক্ষক এবং এ্যাডভোকেটসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
