ঘাতকদের বিচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা জাতিকে পাপমুক্ত করেছেনঃ মেয়র
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধাভোগীরা নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস বিভ্রান্তির জালে বন্দী করে এ জাতিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কালোরাত্রি কালোবন্যা থেকে জাতিকে উজ্জ্বল উদ্ধার করেছেন। তিনি আরো বলেন, ৭১ ও ৭৫‘র ঘাতকদের মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করে শেখ হাসিনা জাতিকে পাপমুক্ত করেছেন। তবে এখনো নাগিনীরা চারিদিকে বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলছে। তাই ঐ নাগিনীর টুটি চেপে ধরতে হবে।
তিনি আজ মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলা শাখার জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬ষ্ঠ দিনে অনুষ্ঠিত ‘প্রজন্মের ভাবনায় জনে জনে জনতার মনের আয়নায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, মাটি ও মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর যে ভালোবাসা ছিল তা যদি আমরা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী ২০৪১ সালে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে যোগ্য কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাই তাদেরকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতি এবং মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরাধিকারদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।
সভাপতির ভাষণে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদ কো-চেয়ারম্যান আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্মানিত সম্পাদক ও চসিক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের শোষিত মানুষের সরাজ প্রতিষ্ঠার বাতিঘর। গণমানুষের অর্থনৈতিক শৃঙ্খল মুক্তির জন্য তিনি শোষকের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠার রংমশাল। তাঁর আলোয় বাঙালি আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান সূর্য। তাই আমরা নিজেদের গরিবী পরিচয় গুছিয়ে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এ অগ্রযাত্রায় পথের কাটা উপরে ফেলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য জামালখান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রকৌশলী বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ বলেন, বঙ্গবন্ধুর শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব। এ বিশ্বের সকল মুক্তিকামী জনতার কাছে তিনি জাগরণের অগ্নিবীণা। এ বীণার সুরে আমরা আজ রক্তধমনীতে শিহরিত হই।
স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলা জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদের মহাসচিব আলহাজ্ব দিদারুল আলম দিদার বলেন, নির্মূল করো অশুভ শনিগ্রহের অশনি সংকেত- এ বার্তা নিয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আমাদের মাসব্যাপী কর্মসূচি নতুন প্রজন্মকে অসত্য, অসুন্দর এবং সমস্ত পাপাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠার একটি আদর্শিক প্রেরণা। এ প্রেরণায় আজ যাঁরা আমাদের সাথী হয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘প্রজন্মের ভাবনায় জনে জনে জনতার মনের আয়নায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আয়োজক পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী জাবেদুল আলম সুমন, সমন্বয়কারী এম এ মান্নান শিমুল।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, ফারুক চৌধুরী, রিদোয়ান ফারুক, মহানগর ছাত্রলীগে সহ-সভাপতি মিথুন মল্লিক, রুবেল আহমদ বাবু, আবু সুফিয়ান, নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল, যুবলীগ নেতা আবদুল কাদের, যীশু তালুকদার, লিয়াকত আলী, ইকবাল বাহার চৌধুরী, মো: মানিক। আরোও উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ চৌধুরী, অরভিন সাকিব ইভান, সাব্বির সাদেক, তানজীরুল হক, সৈকত দাশ, অরুপ দাশ প্রলয়, পৌলম দেব ভুবন, শৈবাল দাশ, আকিব জাবেদ, মিশকাতুল কবির, কাজী রবিউল ইসলাম ফরহাদ, কুমার রাজশ্রী বাবু, অরুপ বড়–য়া, অন্তু দে, মো: বেলাল, সালাউদ্দিন, কাজী রবিউল ওয়াহাব কমল, অভিজিৎ পান্ডে, সাইমুল সজিব, রাতুল, শাওন প্রমুখ।
