চমেক আশেপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রেতা ও ভাসমান হকার উচ্ছেদ করা হবেঃ মেয়র
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (চমেক) সংলগ্ন আশ পাশে পান-তামাকজাত দ্রব্য বিক্রেতা এবং ভাসমান হকার উচ্ছেদের ঘোষনা দিলেন চমেক ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান,সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন।
আজ সোমবার দুপুরে চমেক ব্যবস্থাপনা কমিটি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষনা দেন। সভা পরিচালনা করেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে চমেক শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দিন মাহমুদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, দৈনিক আজাদীর স্টাফ রিপোর্টার রতন বড়ৃয়া, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার প্রণব কুমার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শামীম হাসান, পরিচালক স্বাস্থ্য চট্টগ্রাম বিভাগ ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, পিডব্লিবি এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উজির আলী, চমেক হাসপাতালের সেবা তত্বাবধায়ক রাধু মহুরী, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড.এ এস.এম.বদরুল আনোয়ার চৌধুরী, সানসাইন গ্লামার স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ সাফিয়া গাজী রহমান, চমেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মঈন উদ্দিন মাহমুদ, চমেক হাসপাতাল নার্সিং এসোসিয়েশনের সভাপতি রতন কুমার নাথ, চমেক হাসপাতল ২য় শ্রেনীর প্রতিনিধি প্রণব কুমার হাওলাদার, চমেক এর তৃতীয় শ্রেনী সরকারী কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান চৌধুরী, চমেক হাসপাতাল ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী সভাপতি মো. রত্তন আলী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে চমেক পরিচালক হাসপাতালে বিদ্যমান কার্যক্রমের কিছু তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।সিটি মেয়র বলেন জননিরাপত্তার স্বার্থে চসিক ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারে। চমেক সিটি কর্পোরেশন এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষার্থে চসিক যে কোনো উদ্যোগ নিতে পারে। এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র চসিক ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার কথা উল্লেখ করে বলেন শিঘ্রই চমেকে এবং চমেক সংলগ্ন এলাকায় সকল ধরণের অবৈধ দোকান পাট আইনগতভাবে উচ্ছেদ করা হবে। এরপর এই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা যাতে বসতে না পারে, সেই ব্যাপারে চমেকের দায়িত্বরত পুলিশ,আনসার ও ওয়ার্ড মাষ্টারের সমন্বয়ে গঠিত টীম সার্বক্ষনিক নজরদারীতে রাখার পরামর্শ মেয়রের। এই ব্যাপারে কেউ কোনো ধরণে ভয়-ভীতি ও হুমকী দিলে সাথে সাথে সিটি মেয়রের আমলে দেয়ার আহবান জানান মেয়র।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধ দখল করে আছে। অবৈধ দখলকৃত এসব সম্পত্তি উদ্ধারে উদ্যোগ নিচ্ছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চমেকের এ উদ্যোগে সকল ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন সিটি মেয়র। এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব সম্পত্তির অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ এবং ভূমি সার্ভে কার্যক্রমে চসিকের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে।
তিনি বলেন চসিকের ভূমি শাখা সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি দেখভাল ও আইনি জটিলতা নিরসনে কাজ করে থাকে। চমেকের সম্পত্তি অবৈধ দখল উচ্ছেদে আমাদের প্রাথমিক কাজ হবে সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ। কাগজ পত্র সংগ্রহ করার পর চসিকের সহায়তায় ভূমি সার্ভে করা হবে। তারপর অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মেয়র আরো বলেন, এই অঞ্চলের আপামর জনগণের চিকিৎসা সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে চমেক। যেটা হাসপাতালের মোট ধারণ ক্ষমতার ৬ গুণ বেশি। কিন্তু বিশাল এই রোগীসংখ্যার চাপ সামলাতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী সেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছে।
সভায় মহিলা ইন্টার্ণ হোস্টেলের নামকরণ,পরিবেশ ছাড়পত্র,গোয়াছি বাগান, কলা বাগান, লিচু বাগান, মসজিদ কলোনীতে বিদ্যুতের প্রি পেইড মিটার স্থাপন, নির্মিতব্য ১৪ তলা বিশিষ্ট ক্যানসার ভবনে টিনের মসজিদ ক্যান্টিন সমুহ স্থাপন, বার্ণ ইউনিট স্থাপন, মেডিকোলিগ্যাল,নিরাপত্তা সহ বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মেয়র মেডিকেলের ৪র্থ তলায় অর্থোস্কপি অপারেশন মেশিন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর দেশ জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
