সন্ত্রাস-মাদক নির্মূলসহ ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছিঃ আব্দুল কাদের

0

দিলীপ তালুকদারঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড পাঠানটুলী এলাকার বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুর কাদের। শ্রম মেধায় ও আন্তরিকতায় দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছরে মানুষের হৃদয় জয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। রাস্তাঘাট প্রশস্ত, কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসণে রেখেছেন সুষ্ট পদক্ষেপ। যে কারনে এলাকাবাসী এসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সুফল ভোগ করছেন।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের সার্বিক সহযোগীতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকা- সম্পন্ন হয়েছে।
গত সপ্তাহে আজকের সূর্যোদয়কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আব্দুল কাদের বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক টেন্ডার হয়েছে এবং কাজ হয়েছে। আপনি জানেন, একটা বাইপাস রোড আমার এলাকায় করার উদ্যোগ নিয়েছি। বাইপাস রোডটি সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা করছি মেয়র মহোদয়েল সহযোগিতায়। আগ্রাবাদ থেকে নিউমার্কেট যেতে যে সময় লাগত তার চেয়ে অল্প সময়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। জমির ক্ষতিপূরণ দিয়েই আমরা কাজ শুরু করবো।

কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বলেন, কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার সামনে বড় সমস্যা ছিল মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে আমার ইশতেহারেও ছিল। যে কারনে আমি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে অভিযান চালিয়েছি। বলতে পারি আমি সফল হয়েছি। সন্তাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান নিজে চালিয়েছি পুলিশের সহযোগীতায়।

ডেবার পাড়ের একটা কর্ণারে একটি স্পটে মাদক ব্যবসা বন্ধে আমি উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে বুঝিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করেছি। পাঠানটুলিতে জাফর সর্দারের বাড়ীতে পুলিশ নিয়ে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেছি। মাদক ও সন্ত্রাস এলাকায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে আছে। আমি মনে করি এটা আমার সফলতা। মাননীয় মেয়র মহোদয়ের মাদক ও সন্তাসমুক্ত সমাজ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করেছি।

৪১ ওয়ার্ডে এভাবে সচেতনমূলক অনুষ্ঠান হয়েছে। আগামীতে লালদিঘী মাঠে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির উপস্থিতিতে ৪১ টি ওয়ার্ডের এই সফলতা তুলে ধরা হবে ইনশল্লাহ্। মাদক নির্মূল জনগণকে সচেতন হতে হবে। শুধু পুলিশ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। অভিভাবকদের এব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। আপনার সন্তান স্কুল কলেজে যাচ্ছে- নাকি আড্ডা দিচ্ছে সেটা তদারকী বা খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে বাবা মায়েদেরও ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করছি। আমার এলাকা ও পার্শ¦বর্তী এলাকা ছিল জামাত-শিবির নিয়ন্ত্রিত এলাকা। ’৮৪ ও ৮৫ সালে ছাত্ররাজনীতি করার সময় ছাত্রলীগের কমিটি করার মতো কোন অবস্থা ছিল না। সেই অবস্থান থেকে অনেক ত্যাগ, শ্রম ও সাংঠটনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আজকে একটা আবস্থানে নিয়ে আসতে পেরেছি।

কমার্স কলেজকে কেন্দ্র করে জামায়াত শিবিরের এক সময় অবস্থান ছিল। আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে পরবর্তীতে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। সে সময় মিথ্যা মামলায় আমদের ফেরারী হতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমার পরিবার পরিজনকে নির্যাতন করা হয়েছে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় নির্যাতনের মাত্রা ছিল ভয়াভহ।

আজকে রাজনীতিতে হাইব্রীড ও পদ-পদবীর জন্য সুযোগ-সন্ধানীরা জায়গা করে নিচ্ছে। তৃণমূলের ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশা ও ভরসার আশ্রয়স্থল। রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য। তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবী। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মূল্যায়ন করছেন। এটা রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ। রাজনীতিতে প্রতিযোগীতা থাকবে তবে অন্তঃকোন্দল কোনভাবে গ্রহনযোগ্য নয়।

কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বলেন, আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আবারও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য এলাকাবাসীল চাপ ও অনুরোধ রয়েছে। এলাকাবাসী যদি চান অবশ্যই আমি প্রার্থী হব। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত যেভাবে হয় আমি মেনে নেব। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট সংগঠক কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বলেন, আমার এলাকায় বিগত সাড়ে ৪ বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। আরো টেন্ডার এখন অপেক্ষমান আছে।

আমার এলাকায় বিগত দিনে প্রচুর উননয়ণ কার্মকান্ড হয়েছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করতে পারেন। অনেক কাজ এখন দৃশ্যমান। আমি এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড মাননীয় মেয়র মহোদয়ের আন্তরিকতায় ও সহযোগীতায় করতে সক্ষম হয়েছি। মানুষকে যথাসম্ভব সেবা করার চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। মানুষ আশাকরি মূল্যায়ণ করবে আমার বিগত দিনের উন্নয়নের কর্মকান্ড।

আপনি জানেন, আমার এলাকায় একটি স্কুল খুব জরাজীর্ণ ছিল। এডিপির অর্থায়নে সিটি কর্পোরেশনের ৫টি হাইস্কুলের মধ্যে আমাদের স্কুলটি মেয়র মহোদয় অনুমোদন দেওয়াতে ৫ তলা ভবন নিমার্ণ করতে পেরেছি। এটা একটা অত্যাধুনিক ভবন হয়েছে। আগামী মাসে এটা উদ্বোধন করবো ইনশল্লাহ্ । আমার এলকায় প্রায় ৩৮ হাজার ভোটার ছিল। প্রায় ২লাখ মানুষের বসবাস। আমার এলাকায় পড়েছে বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা। শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাও রয়েছে। আমার স্বপ্ন ছিল, একটি হেলদি ও নান্দনিক ওয়ার্ড গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি।

মাননীয় মেয়রের উদ্যোগে স্বাস্থ্য সেবার উদ্যোগ আগামী মাস থেকে ৪১টি ওয়ার্ডে শুরু করবো। ৪১ টি ওয়ার্ডের ১ টি ওয়ার্ডে এক হাজার পরিবারকে আমরা স্বাস্থ্য সেবা বিনামূল্যে দেব। সে পরিবারের ৫/৭ জন সদস্য থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে। কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করেছি। টাইগারপাস থেকে প্রায় ১৮ ফুট নিচে আমার ওয়ার্ড। টাইগারপাসে যে পলি জমে নালায় এসে আটকে যায়। বৃষ্টির সময় কাপুড়িয়া পাড়ায় পানি জমে যায়। বিষয়টি মাননীয় মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যেখানে যেভাবে দরকার কাজ করেছি। তবে এখনও হয়, জোয়ারের তীব্রতায়।

কমার্স কলেজের হোস্টেল রোডে আগে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সয়লাব হলে মেয়েদের ২টি পোষাকের সেট নিয়ে আসতে হত। ক্যাম্পাসে পানি উঠে যেত। এটা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। সে অবস্থা নেই। আমার এলাকায় পানি আগের মতো জমে না। পরিকল্পিতভাবে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে। আমার এলাকায় সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করেছি।

রাজনীতি আমার রক্তে। সেবার মনোভাব আমার নীতি ও আদর্শে। ভোগ-বিলাস বা পদ-পদবী আমাকে কখনো আদর্শ থেকে লাইনচ্যুত করেনি। আমার এলাকাবাসী মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগীতা করেছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। মানুষের পাশে আছি। মানুষের পাশেই থাকবো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে শত নির্যাতন, কারাভোগ, মিথ্যা মামলা, হামলা কোন কিছুই আমাকে নীতি ও আদর্শ থেকে সরাতে পারেননি। এলাকাবাসীর দোয়া ও আশির্বাদই হবে আমার আগামীর পথচলা।

বিশিষ্ট সংগঠক, সমাজ সেবক ও কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বলেন, রাজনীতি করে যাচ্ছি ভোগের জন্য নয়, ত্যাগেই হচ্ছে রাজনীতির সচ্ছতা ও সঠিক পথ। দল ক্ষমতায় এজন্য কি পেলাম, কি পেলাম না, এ চিন্তা চেতনা দিয়ে রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রাজনীতি। সমাজ হতে অনাচার, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধ দূর করাই আমার লক্ষ্য।

রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়া বড় কথা নয়। কতটুকু কর্মীবান্ধব হয়ে দলের জন্য কাজ করছি সেটাই হবে দেখার বিষয়। সমাজে যুব ও তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে। সমাজে নির্যাতিত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকাটাই আমার নীতি ও আদর্শ। আপনি জানেন, রাজনীতি করতে গিয়ে চরম দুঃসময়, নির্যাতন, কারাভোগ ও মিথ্যা মামলায় বার বার বছরের পর বছর নিগৃহিত ও নির্যাতিত হতে হয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি অনেক চড়াই উৎরাই ডিঙ্গিয়ে, কোন লোভ-লালসা আমাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবেনা ইনশল্লাহ্।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.