সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রশাসনের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে চাইঃ আবু সুফিয়ান
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি। অনেক হামলায় আক্রান্ত হয়েছি। কিন্তু জনগণের ভালোবাসায় আমাদের সমস্ত বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে আজ এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি ১৩ জানুয়ারী জনগণের ভোটে সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র উপেক্ষা জনগণের বিজয় নিশ্চিত করে আমরা ঘরে ফিরতে পারব।
বিগত কয়েকদিন আগে প্রধান নিবাচন কমিশনার আমাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, সিইসি মহোদয় চট্টগ্রাম ছাড়ার পরে আমাদের নেতাকমীদের নামে হয়ত বিভিন্ন থানায় মামলা হতে পারে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সেই কথার প্রতিফলন আমরা পেয়েছি। গত পরশুদিন বোয়ালখালীতে নৌকার ক্যাম্পে সাজানো আগুন দিয়ে একটি মোটর সাইকেল তারা নিজেরাই পুড়িয়ে দেয়। বোয়ালখালী পৌর মেয়র আবুল কালাম আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খানসহ আমাদের দলের নির্বাচনের মূল কাজ যারা করবে তাদেরকে আসামি করে বোয়ালখালী থানা পুলিশ একটি মামলা করেছে।
আমাদের নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের দিন এলাকায় না থাকার জন্য, ভোটের কাজে অংশগ্রহণ না করার জন্য। আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, এই নির্বাচনে আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন, এই প্রত্যাশা আমাদের আছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা, জনগণের আশার বিরুদ্ধে আপনারা যাবেন না। যেখানে অনিয়ম, অসঙ্গতি, কারচুপি, ভোটদানে বাধা আসবে সাথে সাথে সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে জাতিকে অবহিত করবেন।
তিনি আজ ১১ জানুয়ারী শনিবার দুপুরে নগরীর জামালখানস্থ একটি রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বোয়ালখালীতে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি বলে নৌকার প্রার্থী বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। বিগত ১১ বছর উনারা ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু তারা কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। আওয়ামীলীগ প্রার্থী বলছেন নির্বাচিত হলে তিনি বোয়ালখালীকে সোনা দিয়ে মুড়ে দেবেন অথবা কালুরঘাট সেতু এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান করবেন, অনেক প্রতিশ্রুতি তিনি দিচ্ছেন। আমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিশ্র“তি দিতে চাই না। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। একজন রাজপথ থেকে উঠে আসা কর্মী হিসেবে আমার কমিটমেন্ট হচ্ছে জনগণের প্রতি। রাজনীতিতে এসেছি একটা কমিটমেন্ট নিয়ে। সেটা হচ্ছে- দেশের জন্য, জনগণের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা। আমি যদি সংসদ সদস্য নিবার্চিত হতে পারি, আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভ, লোভ থাকবে না।
একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকা এবং দেশের জন্য কাজ করবো নিঃস্বার্থভাবে, সততার সাথে। এই আবু সুফিয়ানকে যেভাবে রাজনীতির শুরু থেকে দেখে এসেছেন সংসদ সদস্য যদি হতে পারি, তারপরও সেই আবু সুফিয়ানকেই আপনারা পাবেন। তারপরও সংসদ সদস্যের প্রতি এলাকার মানুষের কিছু প্রত্যাশা থাকে। যদি নিবাচিত হতে পারি, কালুরঘাট ব্রিজ এটা বোয়ালখালীবাসীর জন্য এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য একটা মরণ যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ কালুরঘাট ব্রিজের দুই পাশে অপেক্ষা করে, তাদের শ্রমঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক বিষয়।
কালুরঘাট ব্রিজকে নিবাচনী বৈতরণী পার হবার জন্য মূলা না ঝুলিয়ে এই ব্রিজ অবিলম্বে নির্মিত হওয়া প্রয়োজন চট্টগ্রামের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। আবু সুফিয়ান বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আমার এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক-চুরি-ডাকাতি থেকে যাতে এলাকা মুক্ত থাকে সেই চেষ্টা করব। সুন্দর পরিবেশে সবাই যাতে মর্যাদার ভিত্তিতে সহাবস্থানে থাকতে পারে সকল রাজনৈতিক দল, সকল মত-পথের মানুষ যাতে থাকতে পারে সেই চেষ্টা থাকবে। কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর প্রতি বিভেদ, সাম্প্রদায়িক বিভেদ না করে যাতে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে পারি, সেটাই আমার প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, মানুষের কাছে গেছি, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস আছে। তবে আতঙ্কও আছে যে ভোট দিতে পারব কি না। আমরা সেই আতঙ্ক দূর করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। উনারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, জনগণ ভোট দিতে পারবে। সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন। আমরা তাদের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে চাই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ভোটারদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এটা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যাতে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রশাসনকে চোখ খোলা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দেখেছি, মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষের জোয়ারের কাছে ইভিএম ষড়যন্ত্র খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে। আতঙ্ককে জয় করে মানুষ যখন মাঠে নেমেছে, মানুষ যখন আন্দোলন-সংগ্রামে নেমেছে, তাহলে ইভিএম নিয়ে কারচুপির ষড়যন্ত্র করে পার পাওয়া যাবে না। ভোটে কোনো কারচুপি হলে আমরা জনগণকে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আমার আসনসহ বাংলাদেশের মোট ৬টি আসনে ইভিএমে নিবাচন হয়েছে। প্রতিটি আসনে আমিসহ আমাদের সব প্রাথীকে হারানো হয়েছে। সেজন্য এই ইভিএম এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এই শঙ্কার কথা আমরা কয়েকদিন আগে প্রধান নিবাচন কমিশনারের কাছে তুলে ধরেছিলাম।
তিনি জবাবে একটি হাস্যকর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন- আমাদের মেশিন নাকি ইন্ডিয়ার চেয়ে উন্নততর। আমরা বুঝতে পারছি না, এই নিবাচন কমিশন কি আদৌ আমাদের কথা বুঝতে পারছে নাকি আমরা উনাদের কথা বুঝতে পারছি না। আমরা এমনও শুনেছিলাম যে, প্রিজাইডিং অফিসার নাকি ২৫ শতাংশ ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। এসব বিষয় আমাদের কাছে পরিস্কার করা হয়নি। এজন্য এই নিবাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে আশঙ্কা আছে। জনগণের মধ্যেও ইভিএম নিয়ে আতঙ্ক আছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের এখনো শঙ্কা আছে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। তারপরও আমরা সাধারণ মানুষের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আগ্রহ দেখছি। আশাকরি মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার জন্য কমিশনকে বলেছি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা জমা দিয়েছি। আশাকরবো আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করে ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তা বিধান করবেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিষ্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাস, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, নাজিম উদ্দিন আহমদ, সি: যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আনোয়ার হোসেন লিপু, শাহেদ বক্স, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, জেলা বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান. মোস্তাফিজুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মুবিন, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী প্রমুখ।
