৭ মার্চ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিশু একাডেমিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0

সিটি নিউজঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমির উদ্যোগে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আজ ৭ মার্চ ২০১২০ ইং শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

শিশু প্রতিনিধি আয়মানের সভাপতিত্বে ও একাডেমির প্রশিক্ষক তানভীরুল ইসলাম নাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবু হাসান সিদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নারগীস সুলতানা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মমতা’র নির্বাহী প্রধান রফিক আহমেদ।

শিশু প্রতিনিধি সাঈদ চৌধুরীর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শোনান শিশু শিক্ষার্থী আয়মান। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু স্মরণে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিশু শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা, স্নেহা বড়ুয়া ও রাইফা।

তবলায় সহযোগিতা করেন একাডেমির প্রশিক্ষক ছোটন চক্রবর্তী। আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাংকন ও ভাষণ প্রতিযোগিতায় ক, খ ও গ গ্রুপে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবু হাসান সিদ্দিকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে সাফীরাহ মাকারিম- ১ম স্থান, প্রাঞ্জল দাশ -২য় স্থান ও ওমেরা ফিদান -৩য় স্থান, ‘খ’ গ্রুপে সুবাহনা শওকত-১ম স্থান, নুসরাত জাহান প্রীতি-২য় স্থান ও প্রদীপ্ত দে-৩য় স্থান, ‘গ’ গ্রুপে সাজিয়া আফরিন-১ম স্থান, দীপ্ত আচার্য-২য় স্থান ও অংশুল সাহা-৩য় স্থান। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে আয়মান ফারদিন-১ম স্থান, শ্রাবস্তী বড়ুয়া-২য় স্থান ও শামসুন নাহার-৩য় স্থান এবং ‘খ’ গ্রুপে অন্যান্য চৌধুরী-১ম স্থান, নাফিসা আনজুম রাইসা-২য় স্থান ও অনুভা ভট্টাচার্য ৩য় স্থান অর্জন করেন। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে স্বপ্নে বিভোর করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রেখেছে। এই ভাষণের মাধ্যমে জাতির পিতা নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করেছিলেন।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাঙালি জাতিকেই অনুপ্রাণিত করেছিল তা নয়, বরং এ ভাষণ যুগে যুগে বিশ্বের সব অবহেলিত ও বঞ্চিত জাতি-গোষ্ঠীকে অনুপ্রেরণা জোগাতে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর প্রেরণাদায়ে সেই ভাষণ বাঙালি জাতির কাছে সব সময়ই বিশেষ কিছু। ২০১৭ সালে জাতিসংঘে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো বিশ্ব ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করে ভাষণটিকে।

সংস্থাটি বিশ্বের ৭৮টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও অন্তর্ভুক্ত করে। এর পর সরকারিভাবে দিবসটি আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করা হয়। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.