চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ফুলতলা এলাকার মুদি দোকান ব্যবসায়ী দূর্বৃত্তের হাতে গুরুতর আহত হয়ে দেড়দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে দোহাজারী পৌরসভার নাথপাড়ার মৃত বৈকুন্ড নাথের ছেলে স্বপন নাথ (৪০) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে যাওয়ার পথে নাথপাড়া মন্দিরের পাশে দূর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়। এসময় দূর্বত্তরা তাকে এলোপাহাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং তার নিকট থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলে তার পারিবারিক পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
একইদিন রাত ৩টার সময় স্থানীয়রা স্বপন নাথকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন গত শনিবার ৭ মার্চ একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ৮ মার্চ বেলা ১১টায় অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
স্বপন নাথের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বপন নাথের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী, ২ সন্তান ও স্বজনদের আহাজারীতে আকাশ ভারী হয়ে উঠে।
এব্যাপারে কেন্দ্রীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. রানা দাশ গুপ্ত, কেন্দ্রীয় নেতা প্রদীপ চৌধুরী, বিজয় বড়ুয়া, দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি দিলীপ ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়, চন্দনাইশ কমিটির সভাপতি এড. তুষার সিংহ হাজারী, সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু যথা চক্রবর্ত্তী, চন্দনাইশ উপজেলা পূজা উদযাপন নেতৃবৃন্দ এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে আরো জানা যায়, স্বপন নাথের মৃত্যুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের গ্রেপ্তাদেরর দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবেন।
এব্যাপারে থানা অফিসার কেশব চক্রবর্ত্তী বলেছেন, ব্যবসায়ী স্বপন নাথের উপর হামলার ঘটনা শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং আজ তার মৃত্যুর সংবাদ জেনেছেন। অদ্যাবধি কোন রকম অভিযোগ পাননি বলে তিনি জানান। অভিযোগ পেলে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
