স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটভক্তরা যারা হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন তাদের জন্য সুসংবাদ! অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল আপাতত বাংলাদেশ না আসলেও অচিরেই আসছে। তা হতে পারে অক্টোবরের পরেই। কারণ, অস্ট্রেলিয়ান সরকারের পক্ষে থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সর্তকবার্তা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের জন্য। এরপরই দুই বোর্ড আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক সময়ে সিরিজ আয়োজন করবে। বিসিবি এমনটাই নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস সাদারল্যান্ডেরও সুর একই সূত্রে বাঁধা। সুবিধাজনক সময়েই দুই টেস্টের এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সতর্কবার্তা অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এটা তো আর অনন্তকালের জন্য নয়। আমি যতটুকু জানি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত কথা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে সুবিধাজনক একটি সময় বের করে সিরিজটি দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস সাদারল্যান্ড বলেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আপাতত বাংলাদেশ সফরে আমরা দল পাঠাচ্ছি না। গত ৬ দিন বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করার পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে কখন সিরিজটি মাঠে গড়ানো সম্ভব; তা নির্ধারণ করব।’
নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়া না আসায় হতাশা ব্যক্ত করে নাজমুল হাসান পাপন এমপি বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি নিশ্চিত না, কেন তারা সফরটি স্থগিত করল। ওদের (অস্ট্রেলিয়া) যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, এটা যে কোনো দেশকে দেখালেও বুঝতে পারবে তারা কতটা নিরাপদে থাকত।’
আগামী ৮ অক্টোবর আইসিসির সভা রয়েছে দুবাইতে। সেখানেই বিসিবি সভাপতি আইসিসির কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন রাখবেন— এত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সত্ত্বেও কেন অস্ট্রেলিয়া সফর স্থগিত করল? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘কি এমন ঘটনা ঘটল যে ওরা (অস্ট্রেলিয়া) এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার পরও আসল না। এ সব জিনিস আসলে চিঠি দিয়ে লেখালেখি করে বোঝা সম্ভব নয়। আইসিসির সভাতে সামনা-সামনি কথা বলব।’
নাজমুল হাসান পাপন আরও বলেছেন, ‘এখানে জঙ্গিবাদ প্রশ্ন আসার কোনো সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ওপর জঙ্গি হামলা হতে পারে। ওদের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেখানোর পর মনোভাব কিছুটা নমনীয় হয়েছিল। কিন্তু আততায়ীর গুলিতে ইতালিয়ান নাগরিক মারা যাওয়ার পর চিত্র কিছুটা বদলে যায়। সেই সঙ্গে অন্য দেশগুলো থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়। এই সবগুলো বিষয় মিলিয়ে হয়তো খেলোয়াড়রা ঘাবড়ে গেছে।’
সিরিজটি যথাসময়ে না হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিসিবির প্রধান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ক্ষতি হয়েছে, এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ১৬ কোটি মানুষ মুখিয়ে ছিল কখন অস্ট্রেলিয়া আসবে, সিরিজটি কখন মাঠে গড়াবে। এটাইতো বড় ক্ষতি, দর্শকরা বঞ্চিত হল। এ দেশের মানুষ কষ্ট পেল। আমরা কষ্ট পেয়েছি। আপনারাও পেয়েছেন।’
৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে শান্ত, স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় যদি তারা না আসে, ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া কিভাবে আসবে বলে মনে করেন— এমন প্রশ্নে নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘এখানে শুধু বাংলাদেশ ধরলে হবে না, এখানে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নামও রয়েছে। এক্ষেত্রে কি এখানে ক্রিকেট খেলা হবে না। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটা নিয়ে আমি আইসিসির সভাতে কথা বলব। সভায় এটাই আমার মূল এজেন্ডা থাকবে।’
