সিটিনিউজবিডি : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ঘোষিত গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে তা কার্যকর হবে ১০ অক্টোবর থেকে। নগরীর অভ্যন্তরে ও নগরী থেকে উপশহর অভিমুখে চলাচলকারী সব গুলো রুটের বর্ধিত ভাড়ার তালিকা তৈরী না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে ৩ অক্টোবর শনিবার থেকে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হওয়ার সংবাদকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপ্রয়াস বলেও মন্তব্য করেছে পরিবহন মালিক সমিতি।
শুক্রবার বিষয়টি আবারো নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু এবং বিআরটিএ’র সহকারি পরিচালক মো. নুর হোসেন।
ঢাকায় ১ অক্টোবর থেকে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হলেও চট্টগ্রামে ১০ অক্টোবর থেকে বর্ধিত ভাড়া নেয়ার কথা জানিয়েছিল মালিক সমিতি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের একাংশের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ শনিবার (৩ অক্টোবর) থেকে নগরীতে গণপরিবহনে নতুন হারে ভাড়া আদায় করা হবে ঘোষণা দেয়। যা কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চট্টগ্রামের পরিবহন মালিক সমিতি বিষয়টি যাত্রী সাধারণের কাছে পরিস্কার করে।
এদিকে, ওই ঘোষণাকে উঁড়িয়ে দিয়ে ১০ অক্টোবর থেকেই নগরীর অভ্যন্তরে ও নগরী থেকে উপশহর অভিমুখে চলাচলকারি সব গুলো রুটের বর্ধিত ভাড়া আদায় করা হবে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল ও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের একাংশের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলাচলকারি যানবাহনে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বাস-মিনিবাস ছাড়া হিউম্যান হলার, রাইডারসহ অন্য সকল গণ পরিবহনের বর্ধিত ভাড়ার তালিকা বিআরটিএ থেকে এখনো দেওয়া হয়নি, তাই বাস মলিক-শ্রমিকরা পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারি সব গুলো রুটের বর্ধিত ভাড়া কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এদিকে নিজেকে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ‘আসল মহাসচিব’ দাবি করে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘এখনো ভাড়া বাড়ানোর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। যারা উল্টা-পাল্টা বলছে তারা সবাই মিথ্যবাদি। আমরা এখনো যোগাযোগ মন্ত্রী র্কতৃক ২০১১ সালের ১৮ই মে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ি ভাড়া আদায় করছি। বিআরটিএ থেকে পূর্ণ চার্ট পেলে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে। যারা এর বাইরে গিয়ে ভাড়া আদায় করবে তাদের প্রতিহত করা হবে।’
তবে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের একাংশের মহাসচিব দাবি করা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কারা কখন কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিনা। তবে আমরা শনিবার থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় করবো। আমি ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের আর কোন মহাসচিব নেই।’
নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) মাসুদ-উল-হাসান বলেন, ‘গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয় সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তার থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় মেনে নেয়া হবে না। এবিষয়ে আমরা সজাগ আছি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট গ্যাসের (সিএনজি) দাম বাড়ায় সরকার। গ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন মালিকদের দাবি মুখে গত ১০ সেপ্টেম্বর বাস ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সরকারি সিদ্ধান্তে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১০ পয়সা বাড়ানো হয়। বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৭০ পয়সা ও মিনিবাসের ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা ও মিনিবাসে সর্বনিম্ন ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাড়বে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়াও।
