চন্দনাইশ জেএম সেন পরিবারের উত্তরাধিকারী মিলন সেনকে বস্ত্র প্রদান
চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বরমা সেন পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী মুক্তিযোদ্ধা মিলন সেন গুপ্তের অসহায় অবস্থা দেখে তার পাশে এসে দাড়িয়েছেন থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্তী ও চন্দনাইশ প্রেস ক্লাব।
গতকাল ১৫ এপ্রিল দুপুরে থানা অফিসার ইনচার্জ তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ঐতিহ্যবাহী সেন পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী মিলন সেনের জন্য ২টি লুঙ্গি, ২টি ফতোয়া এবং চন্দনাইশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন ৪টি গেঞ্জি উপহার দেন। এসময় আবেগে আপ্লুত হয়ে মিলন সেন বলেছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ হয়ে বাসায় পড়ে থাকেন।
দৈনিক পূর্বকোণে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ক্যাপ্টিন ফয়সাল আজিম সুমন তার একটি চোখ অপারেশন করলে তিনি বর্তমানে চোখে দেখতে পান। তার বসতগৃহটি ঝরাঝীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি অদ্যবধি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি।
তিনি বলেন, তার পূর্ব পুরুষ যতীন্দ্র মোহন সেন গুপ্ত ১৮৮৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৩ সালের ২২ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। যাত্রা মোহন সেন ১৮৫০ সালের ৩০ জুলাই জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯১৯ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। নেলী সেন গুপ্ত ১৮৮৬ সালের ১২ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন, ১৯৭৩ সালে ২৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
তাদের সমাধিস্থলটি সংস্কারের অভাবে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা। এ মনিষীদের জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষে কোন অনুষ্ঠান করার মত সমাধিস্থলের জায়গা রাখা হয়নি।
তিনি অভাব অনটনের কারণে শুধু ফুল দিয়ে তাদের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেন বলে জানান। স্থানীয় বিজ্ঞ মহলের মতে এ ৩ ক্ষণজন্মা মনিষীদের সমাধিস্থলটি সংস্কার করার জন্য চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সেসাথে সেন পরিবারের একমাত্র উত্তরসূরী মিলন সেন গুপ্তকে তার মুক্তিযোদ্ধের সনদ পর্যালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার দাবী জানান।
উল্লেখ্য চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলটি সেই যাত্রা মোহন সেন এর নামে এখনো সনাতনী সম্পদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাধি পালনের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে রয়েছে।
