মা ও শিশু হাসপাতালে পানিতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত
সিটি নিউজঃ বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে আবারও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে। পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় বন্ধ থাকছে মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলার সেবা কার্যক্রম। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের।
বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকা থেকে আসা রোগীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষায় সড়কের নানা ঝক্কি পেরিয়ে নগরে এলেও অনেক সময় জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না রোগী ও তাদের স্বজনরা। মাঝে মধ্যে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি ডিঙিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও সেখানে মিলছে না জরুরি বিভাগের সেবা।
নিচতলায় শিশুস্বাস্থ্যের মতো রয়েছে অভ্যর্থনা বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, লিফট রুম, বহির্বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশকিছু বিভাগ। সবই থৈ থৈ করছে পানিতে।
হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে নিচতলায় পানির কারণে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ রোগীদেরও। পানি থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোর প্রায় আড়াই ফুট উঁচু করা হলেও এতেও রক্ষা মিলছে না রোগী ও স্বজনদের।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজন আব্দুল করিম জানান, বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে এই হাসপাতালের নিচতলা প্রায় হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। হাসপাতালের বেডে থাকা রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। জলাবদ্ধতার কারণে শত শত রোগীকে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল ইকবাল জানান, ভারী বর্ষণ হতে না হতে পানির নিচে তলিয়ে যায় হাসপাতালটির নীচ তলা ও প্রবেশপথ। বর্ষায় প্রায়ই এ সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। সামান্য বৃষ্টিতেই নিচতলার জরুরি বিভাগ, অভ্যর্থনা বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, লিফট রুম, বর্হিবিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও এবাদত খানা ডুবে থাকে পানিতে। জোয়ারের সময়ও প্রায় গোড়ালি সমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এখানে।
পানি প্রবেশ এবং দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে মা ও শিশু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ জানান, গত ১০ বছর ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জোয়ারের সময় হাসপাতালে পানি প্রবেশ করছে। পানি থেকে রক্ষা পেতে হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোর প্রায় আড়াই ফুট উঁচু করা হলেও পানি থেকে রক্ষা মিলছে না। ফ্লোর আর উঁচু করারও সুযোগ নেই।
