কর্ণফুলী নদীর সাম্পান মাঝিদের ঘাট ফিরিয়ে দিতে অনশন

0

সিটি নিউজঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নির্দেশ সত্ত্বেও জন্মগত পেশাদার সাম্পান মাঝিদের ঘাট ইজারা না দেওয়ার প্রতিবাদে নিজেদের সাম্পান নিয়ে কর্ণফুলীতে অনশনের আন্দোলনে নেমেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর নদীর সদরঘাট ও ফেরিঘাটে অনশন শুরু করেছে ৮টি সংগঠনের তিন শ মাঝি। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে নদীর দুই পারের যাত্রী।

সাম্পান মাঝিদের বলা হয় কর্ণফুলীর প্রাণপুরুষ। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তে বংশ পরম্পরায় শত বছর ধরে চলে আসা সেই পেশা আজ হুমকির মুখে। করোনার কারণে সাম্পান মাঝিরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। তার ওপর নিজেদের ঘাট হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে মাঝিরা। সাম্পান তাদের বাপ-দাদা তিন পুরুষের পেশা।

২০০৩ সালের পাটনিজীবী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে মাঝিদের ঘাটছাড়া করে চসিক। দেয়ালে তাদের পিট ঠেকে যাওয়ায় দিনব্যাপী অনশন করতে হচ্ছে তাদের। এমনিতেই অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কর্ণফুলীর সাম্পান চিরতরে হারিয়ে যাবে। এমনটা বলেন আন্দোলনের আহ্বায়ক কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী।

এস এম পেয়ার আলী আরো জানান, গত পহেলা বৈশাখ পেশাগত সাম্পান মাঝি থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে পাটনিজীবী (সাম্পান মাঝি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ইজারা দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম। পরে ঘাটহারা মাঝিরা অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

অনশনে কর্ণফুলীর মাঝিরা
অনশনে কর্ণফুলীর মাঝিরা

অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রশাসন-২ শাখা থেকে পাঠানো চিঠিতে পেশাদার জন্মগত পাটনিজীবী সমিতিকে ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ঘাট মাঝিদের ইজারা দেওয়ার অনুরোধ জানালেও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এ বিষয়ে পুনরায় আইনি মতামতের জন্য নির্দেশনাটি চসিক আইন কর্মকর্তার কাছে পাঠান।

এরপর গত ছয় মাসেও মাঝিদের ঘাট ফিরিয়ে দেয়নি চসিক। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যদি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে দাবিগুলো মেনে না নেয় তাহলে চসিক অফিস ঘেরাওসহ আরো কঠোর আন্দোলনের যাওয়ার কথাও বলেন এস এম পেয়ার আলী।

চট্টগ্রাম অঞ্চলিক সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলীউর রহমান বলেন, চসিক মাঝি থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে চট্টগ্রামের কৃষ্টি-সংস্কৃতির পরিপন্থী কাজ করছে। যা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে ট্রেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.