চট্টগ্রামে রাজনীতি কোয়ারেন্টাইনেঃ সক্রিয় চাটুকাররা

0

জুবায়ের সিদ্দিকী, সিটি নিউজঃ চট্টগ্রামে রাজনীতির অঙ্গন আবার চাঙ্গা হয়ে উঠছে। করোনার কারনে মার্চের শেষ থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল মোটামুটি নিরব। বলতে গেলে রাজনীতি ছিল কোয়ারেন্টাইনে। এখনও গালভরা বুলি নিয়ে ভিডিওর মাধ্যমে গলা বের করেন টিভি ও অনলাইনে। নানা যুক্তিতর্ক ও খাজুরা সব বস্তাপঁচা আদেশ-উপদেশ দেন রাজনীতিবিদরা। তারা মনে করেন ভিডিওতে বক্তব্য দিয়ে জনপ্রিয় হচ্ছেন। এসব রাজনীতিবিদ খবর রাখেননা নিজ দলের নেতাকর্মীদের। জনগণ দুরে থাক, দলীয় তৃণমূলের অভাব-অনটনে থাকা সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশে নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃবর্গ।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশ ক্ষমতাসীনদলের কিছু শীর্ষ নেতা মন্ত্রী, মেয়র ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ত্রাণ বিতরণও। সরকারের দেওয়া আড়াই হাজার টাকা কেউ পেয়েছেন কেউ পাননি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তালিকা ছিল ভুল ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত অনেক অভাবী মানুষ প্রণোদনার এই টাকা পাননি। ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় হয়েছে সারাদেশে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতাশীন দলের মানুষ ছিল জড়িত। আগষ্ট মাসে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সভা-সমাবেশ, র‌্যালীসহ নান অনু্ষ্ঠানের মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীগন চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। তবে উল্টোচিত্র বিএনপিতে। রাজনৈতিক অঙ্গন তাদের এখনও নানা প্রতিকুল অবস্থার কারনে নিরব রয়েছে।

চট্টগ্রামে রাজনীতিবিদ অনেকেই করোনার কারনে দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরে আছেন। ঘরের বাহিরে চলাফেরা করলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে অধিকাংশ নেতাকর্মী নিস্ক্রিয়। কারোনার উছিলায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বশীরভাগ নেতা। অন্যদিকে হাইব্রিড ও উড়ে এসে জুড়ে বসা কথিত নেতাকর্মীদের অবাধ পদচারনায় কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন ত্যাগী নেতাকর্মীগণ। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিভক্তির ধারায় পছন্দের নেতার অনুসারী হয়ে অনেকে এখন আখের গোছানো নেতাদের বেশীরভাগ দলে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড।

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগনের মধ্যে  হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারী শীর্ষ অনেক নেতার চামচামি ও তোষামোদি রাজনীতিতে রাজনৈতিক অঙ্গন কলুষিত করছে ও সুষ্ঠধারার রাজনীতিকে ব্যাহত করছে সাংগঠনিক ভিত্তিকে নড়বড় করে। চট্টগ্রামের ক্ষমতাসীনদলের রাজনীতির প্ল্যাটফরমে অতিথি পাখীদের উপস্থিতি দলের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করছে। সরকারের এই মেয়াদে এসে দলীয় অনেকে শীর্ষ নেতার গা ছাড়াভাব দলের অগ্রগতি ও সাংগঠনিক তৎপরতাকে ব্যাহত করায় দলীয় ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ অপরাধের মাত্রা বাড়ায় ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনেক কর্মকর্তা সরাসরি অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। যদিও সরকার কঠোরহস্তে অপরাধ দমনে সক্রিয় ও তৎপর হয়েছেন। বর্তমানে চাটুকাররা সক্রিয় হলেও শীর্ষ নেতারা নির্বিকার।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.