সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধিঃ প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) (২ নভেম্বর) নুরুল হুদা বলেছে, ডিসেম্বরে শেষ নাগাদ আসন্ন পৌরসভাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পালের হাওয়ায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পাটির সহ ৯ জন সম্ভাব্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা মাটে নেমেছেন। দোয়া চেয়ে অনেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন, রঙবেরঙের ফেস্টুন, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নিজেদের জানান দিচ্ছে, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী একাধিক নতুন মুখ মনোনয়ন লড়াইয়ের প্রত্যাশীরা মাঠে দৌড়ঁঝাঁপ শুরু করেছেন।
এতে নড়ে চড়ে বসেছেন, চট্টগ্রামের পটিয়ায় পৌর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীতা জানান দিতে নানা কর্মকান্ড নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা, কুশল বিনিময়ে ঘরে ঘরে গিয়ে উঠান বৈটক, পাড়া-মহল্লায়,অলি-গলি, হাঠ-বাজার, চায়ের দোকান, ব্যাবসা-বানিজ্য সহ নানান এলাকায় গণসংযোগ সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় কর্মকান্ডে ভোটারদের সম্মুখে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেই দোয়া ও সমর্থন আদায় ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে যোগাযোগে সরব রয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র, কাউন্সিলর, নারী কাউন্সিলর একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ নির্বাচনের পালে হাওয়া বইছে, যত্রতত্র কর্মযোগ্যতার কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
আ’লীগের মনোনয়ন নিয়ে ৬ জন হেভিওয়েট নেতা মাঠে, শেষ পর্যায়ে কার কঁপালে জুটে, নৌকার টিকেট, কে পাচ্ছে এ নিয়ে আ’লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে। তবে ক্ষমাতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দলের হাইকমান্ডের ও জেলা, উপজেলা নেতাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে শুরু হবে বলে তাদের কর্ম তৎপরতা চোখে পড়ার মতোই। তবে অন্যান্য দলের তুলনায় আ” লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সংখ্যা বেশী।
সম্ভাব্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন, পটিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলার আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সস্পাদক আ.ম.ম টিপু সুলতান চৌধুরী, উপজেলার আ’লীগ সহ সভাপতি আইয়্বু বাবুল, পৌর আ’লীগ সভাপতি মোঃ আলমগীর আলম, সাবেক ছাত্র নেতা ও পৌর আ”লীগ যুগ্ন-সস্পাদক সরোয়ার হায়দার সহ ৬ জনের নাম বেশ শুনা যাচ্ছে। বিরোধী দল বিএনপির পটিয়ার পৌর সাবেক যুগ্ন আহব্বায়ক তৌহিদুল আলম ও জাতীয়তা বাদী তরুন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কাদের জুলু। অন্য দিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র, শামশুল আলম মাষ্টার।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা সবাই তাদের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেই ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয়ী হলে কে কী উন্নয়ন করবেন ও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিমুক্ত সহ বিভিন্ন উন্নয়নের ডিজিটাল অত্যাধুনিক মডেল শহরের ও জন প্রত্যাশী পূরণ সহ বিভিন্ন সমস্যার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। ভোটারদের সমর্থন নিজের আয়ত্তে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সবাই। অপর দিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশল্লেষনের নানা হিসাব নিকাশ কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে কী হবে। কে হবেন নতুন পৌর মেয়র। কার মাধ্যমে কি উন্নয়ন করার সম্ভব। কে বিজয়ী হলে পৌরবাসী সঠিক সেবা? কোন প্রার্থী কী করছেন। সবই নিয়েই ভোটারদের আলোচনা শেষ নাই। পৌর মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর ও নারী সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। তারাও ভোটারদের কাছে দোয়া সমর্থন চেয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছে। এবার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বেশ নতুন মুখ উপস্থিত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পটিয়া উপজেলার আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, এবারও দল থেকে নির্বাচনের প্রস্তুুতি নিয়েছি। মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি খুবই ভালোই। দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করছি। এলাকার মানুষের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক। সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় প্রত্যেক সংগঠনের কর্মীদের সম্পর্ক অত্যান্ত হৃদ্যতার। ১০বছরে সম্পূর্ণ কাজ করা অসম্ভব। উন্নায়নের মধ্যে রয়েছে, গত ৫ বছরে এম জি-এস পি ৭টি প্রকল্পের প্যাকেজে ৩৮ কোটি ৫০ লক্ষটাকা, এডিপি তহবিলে প্যাকেজ ২৫ টি ৪কোটি ৭৫ ল্ক্ষ টাকা ও নিজস্ব তহবিলে প্যাকেজ ৬১ টি ৬ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। এর মধ্যে নতুন থানার হাট অত্যাধুনিক কিচেন মার্কেট, ৫ কি.মি. ফুটপাত, ৭.৫০ কি,মি, ড্রেন নির্মাণ সহ। প্রধান ও শাখা সড়ক,। ব্রীজ, অত্যাধুনিক পৌর কার্যালয় নির্মাণ সহ নানান বহুমুখী উন্নয়ন কাজ করেছি। নিশ্চয় জনগন ও দল আমার কাজের মূল্যায়ন করবেই।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি আ.ম.ম.টিপু সুলতান চৌধুরী বলছে, আমি নির্বাচনের প্রস্তুুতি নিয়েছি। স্কুল জীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িত। স্কুল ছাত্র লীগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। বিনিময়ে কোনো কিছুই চাইনি। আসন্ন পৌর নির্বাচনে এবার দল থেকে নির্বাচন করবো। দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী আমাকে মেয়র হিসাবে দেখতে চাই। স্বয়ং সম্পূর্ণ পৌরসভা মাষ্টার প্ল্যানের আওতায় ডিজিটাল দৃষ্টিনন্দন শহরে গড়ে তুলবো। একজন মেয়র পদে কত বার থাকবেন। মানুষ পরিবর্তন চায়। সার্বক্ষণিক এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছি। আমি মনে করি দলের সভানেত্রী আমাকে মূল্যায়ণ করবেন।
পটিয়া উপজেলা আ’লীগ সহ সভাপতি আইয়ুব বাবুল বলেন, শিক্ষা জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক, দুঃসময়ে মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। নির্বাচিত হলে ডিজিটাল মডেল শহর উপহার দিব। দলীয় মনোনয়ন পেলেই জয় হবোই।
পৌর আ’লীগ সভাপতি আলমগীর আলমের নাম বেশী শুনা যাচ্ছে। তিনি বলছে, দলীয় মনোনয়ন পেলেই এ নির্বাচনে জয়ের আশাবাদী।
পৌর আ’লীগ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হায়দার বলেন, তৃণমূল থেকে গড়ে উঠা তরুণ রাজনৈতিক নেতা পরিশ্রমী, পৌরবাসীর আমাকে মেয়র হিসাবে দেখতে চান। তাদের সর্মথনে এ নির্বাচনে জনগনের স্বত:স্ফূর্ত ভাবে আমাকে গ্রহণ করেছেন। তাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি, আমি দলীয় মনোনয়ন পেলেই জয়ের আশা করছি।
পটিয়ায় পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ন-আহব্বায়ক তৌহিদুল আলম বলেন, বিএনপি” থেকে গতবার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করেছি। এবারও মেয়র পদে দল থেকে নির্বাচন করবো। তবে দল যদি নির্বাচনে যায়। মাঠ পর্যায়ে আমার অবস্থান খুবই ভালো। দলের নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছি। এলাকাবাসি আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান। মানুষ পরিবর্তন চায়। সব সময় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছি, দুঃসময়ে মাটে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। করোনা সহ বর্তমান সময়েও নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন এলাকার জনগণের পাশে ও দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের সাথে রয়েছি। সামাজিক, রাজনৈতিক,সাস্কৃতিক ধমীয়সহ প্রত্যেক সংগঠনের নেতা কর্মীদের সম্পর্ক গভীর নিশ্চয় জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করবেই। দলীয় মনোনয়ন পেলেই শতভাগ জয়ে আশাবাদী। আমি নির্বাচিত হলে আধুনিক শহরের গড়ে তুলবো।
জাতীয়তা বাদী তরুন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কাদের জুলু বলেন, পৌরবাসীর সর্বস্তরের লোকজন আমাকে স্বত:স্ফুত ভাবে গ্রহণ করেছেন। তারা মেয়র হিসাবে দেখতে চান। পৌর নির্বাচনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। এলাকার লোকজনের সাথে সুম্পর্ক। সামাজিক, রাজনৈতিক, ধমীয় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের সম্পর্ক গভীর নিশ্চয় জনগন ও দলের নেতাকর্মীরা আমার নানান কর্মকান্ডে মূল্যায়ন করবে। দলীয় মনোনয়ন পেলেই শতভাগ জয়ের আশা করছি। আমি নির্বাচিত হলে আধুনিক শহরের গড়ে তুলবো।
জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র, শামশুল আলম মাষ্টার বলছেন, পৌর নির্বাচনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে পৌর এলাকায় আমার ব্যাপক সর্মথক সহ লোকজন স্বত:স্ফুর্ত ভাবে আমাকে গ্রহণ করেছেন। পৌর নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জোর দাবি জানাচ্ছি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হলেই শতভাগ জয়ের আশাবাদী। আমি পৌর মেয়র নির্বাচিত হলেই পটিয়া শহরকে আধুনিক ডিজিটাল মডেল শহর উপহার দিব।
উল্লেখ্য ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেস্বর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরেই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সর্ব প্রথম প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের পরে বিএনপি’র নেতা মোহাম্মদ আলীর পরেই সর্ব প্রথম পৌর মেয়র নির্বাচিত হন জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল আলম মাষ্টার। সর্বশেষ ২০১৫ সাল ৩০ ডিসেম্বর দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ বারের পৌর মেয়র নির্বাচিত হন আ’লীগ নেতা অধ্যাপক হারুনুর রশীদ। আগামী ২০২১ সাল ২৭ ফেব্রুয়ারী মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ভোট সংখ্যা ৫৭ হাজার।
